• শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন

মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুবার্ষিকীতে কলকাতাজুড়ে শ্রদ্ধা ও স্মরণ

ডেস্ক নিউজ / ৪৪ পঠিত
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণে মুখর হয়ে উঠেছে কলকাতা। বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মহানায়কের আবক্ষ মূর্তি ও স্মারকফলকে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরাও।

শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে অংশ নেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়সহ আরও অনেকে। পরে ভবানীপুরে উত্তম কুমারের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনকে সামনে রেখে এদিন একাধিক উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন। এ উপলক্ষে কলকাতাজুড়ে নেওয়া হবে নানা বিশেষ কর্মসূচি।

উত্তম কুমারের স্মৃতি সংরক্ষণ ও চলচ্চিত্র-সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করতে তার নামে একটি নতুন ফিল্ম সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার অধীন ঐতিহ্যবাহী উত্তম মঞ্চ সংস্কার করা হবে। জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতির জন্য নন্দন অথবা রবীন্দ্র সদনে একটি বিশেষ সভার মাধ্যমে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে মহানায়কের পরিবারের সম্মতি নিয়েই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রতি বছরের মতো এবারও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তম কুমারের ভবানীপুরের বাড়ির দরজা খুলে দেওয়া হয় ভক্ত ও অনুরাগীদের জন্য। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন অসংখ্য দর্শক, স্বজন ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। ফুলে ফুলে সাজানো হয় মহানায়কের প্রতিকৃতি। একই সঙ্গে কেওড়াতলা মহাশ্মশান, নন্দন ও রবীন্দ্র সদনসহ কলকাতার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয় স্মরণ অনুষ্ঠানের।

তবে মহানায়ককে ঘিরে দিনভর নানা আয়োজন থাকলেও পরিবারের সদস্যদের কাছে ২৪ জুলাই এখনো বেদনার দিন। উত্তম কুমারের বড় নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সারাদিন নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে কাটলেও দিনের শেষে মনটা খুব খারাপ হয়ে যায়। কারণ, রক্তমাংসের মানুষটাকে আমরা চিরদিনের জন্য হারিয়েছি। তবে দাদুকে ঘিরে এত আয়োজন থাকে বলেই দিনটা কিছুটা অন্যভাবে কেটে যায়।

একই অনুভূতির কথা জানান অভিনেতা গৌরব চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী ও অভিনেত্রী দেবলীনা কুমার। তিনি বলেন, আগেও এই দিনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়েছি। কিন্তু পরিবারের সদস্য হওয়ার পর বুঝেছি, এটি আনন্দের নয়, বরং প্রিয় মানুষটিকে হারানোর কষ্টের দিন।

মৃত্যুর ৪৭ বছর পরও বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে আছেন উত্তম কুমার। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও চলচ্চিত্রজীবনের অনন্য অবদান আজও দর্শকদের কাছে তাকে করে রেখেছে চিরস্মরণীয়। তাই মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকী এলেই শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর নস্টালজিয়ায় নতুন করে ফিরে আসে তার অমর স্মৃতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ