সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মামলার অন্যতম আসামি খল অভিনেতা ডন হককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত রোববার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার শুনানি শেষে জামিন আবেদন না থাকায় এবং তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান।
এদিন আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি ডনের দেওয়া জবানবন্দির বরাতে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।
ফারুকীর দাবি, জবানবন্দিতে ডন জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সালমান শাহর বাসায় আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সামিরাসহ মামলার কয়েকজন আসামি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রথমে ক্লোরোফর্ম ব্যবহার করে সালমান শাহকে অচেতন করা হয়। এরপর অচেতন অবস্থাকে আরও গভীর করতে তাকে ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দড়িটি ডন নিজেই কোমরে বেঁধে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মামলাটি থানায় নথিভুক্ত হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে আদালতে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না এবং তার পক্ষ থেকে জামিনের আবেদনও করা হয়নি বলে জানান ফারুকী। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর দীর্ঘদিন পর গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে দেন।
মামলায় ডনের দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে আসা এসব তথ্য এখন তদন্তে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেদিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
সুত্র: ঢাকা মেইল