• শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

সুর ও কথায় শ্রোতাদের মন জয় করছেন গীতিকার-সুরকার মুনসুর সানী

মোঃ মাসুদ সরদার / ৮ পঠিত
আপডেট : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লোকগান ও আধুনিক সংগীতের জগতে নিজের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে ধীরে ধীরে শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন তরুণ গীতিকার ও সুরকার মুনসুর সানী। তার লেখা ও সুরে প্রকাশিত একের পর এক গান শ্রোতাদের মাঝে সাড়া ফেলছে। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গান ছড়িয়ে পড়ায় সংগীতাঙ্গনে বাড়ছে তার পরিচিতি।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের সুজাতপুর গ্রামের সন্তান মুনসুর সানী। ফোক ও আধুনিক ধারার গান লেখার পাশাপাশি সুর সৃষ্টিতেও রয়েছে তার দক্ষতা। নিজ এলাকার লোকজ ঐতিহ্য, বাউল সংস্কৃতি, প্রেম-বিরহ এবং গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ তার গানের কথায় উঠে আসে। সহজ-সরল ভাষায় লেখা এসব গান শ্রোতাদের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
মুনসুর সানীর সংগীতজগতে পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয় জনপ্রিয়  শিল্পী লায়লার কণ্ঠে প্রকাশিত ‘পিরীত হইলো মনের ক্যন্সার’ গানটির মাধ্যমে। গানটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। এর মধ্য দিয়ে গীতিকার হিসেবে তার কাজ নতুন করে সংগীতপ্রেমীদের নজরে আসে।
বর্তমানে ইতালিতে বসবাস করছেন মুনসুর সানী। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও দেশের সংস্কৃতি ও সংগীতের সঙ্গে তার যোগাযোগ অটুট রয়েছে। দূর প্রবাসে থেকেও নিয়মিত গান লিখছেন এবং নতুন নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা গানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সৃষ্টিতে সিলেট-সুনামগঞ্জের মাটি, মানুষের জীবন ও লোকজ সংস্কৃতির গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি ও গানের প্রতি আগ্রহ ছিল মুনসুর সানীর। সুজাতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই গান লেখার প্রতি তার ঝোঁক তৈরি হয়। ২০২৩ সালে ‘সেই যাদুটা আমারে শিখাও’ গানটির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে গীতিকার হিসেবে তার পথচলা শুরু হয়। গানটিতে কণ্ঠ দেন আকাশ মাহমুদ ও লায়লা। এরপর একের পর এক গান লেখার মাধ্যমে নিজের সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন তিনি।
২০১৭ সালে জীবিকার প্রয়োজনে ইতালিতে পাড়ি জমালেও সংগীতচর্চা থেকে দূরে সরে যাননি মুনসুর সানী। বরং প্রবাস জীবনের পাশাপাশি নিয়মিত গান লেখা ও সুরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তার লেখা গান দেশের বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে প্রকাশিত হচ্ছে এবং শ্রোতাদের মধ্যে প্রশংসা পাচ্ছে।
সম্প্রতি মুনসুর সানীর লেখা লোকগান ‘শুনাবো বাউলা গান, খাওয়াবো সিলোটি পান’ প্রকাশের পরও শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। আইকে মিউজিক স্টেশনের ব্যানারে প্রকাশিত গানটির সুর করেছেন আকরাম খান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন পাপিয়া সরকার, মুন্নী সরকার ও মরিয়ম ইসলাম। প্রকাশের পর গানটি ইউটিউব, টিকটক ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এর বাইরে মুনসুর সানীর লেখা ‘আমার কাজলা পাখিরে’, ‘কেউ প্রেম কইরোনা কারো প্রেমে মইজনা’, ‘পঙ্খিরাজ ঘোড়া’, ‘ভাব জমাইছে’, ‘একটা ভুল কইরাছি আমি’, ‘আমি এক বেহায়া পাখি’ এবং **‘তুমি আমার প্রাণ পাখি’**সহ বেশ কয়েকটি গান শ্রোতাদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে। বিভিন্ন জনপ্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে এসব গান প্রকাশ পাওয়ায় গীতিকার হিসেবে তার পরিচিতিও ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
গান লেখার পাশাপাশি গান পরিবেশনেও আগ্রহ রয়েছে মুনসুর সানীর। তার সৃষ্টিতে যেমন শিকড়ের টান রয়েছে, তেমনি রয়েছে সময় ও মানুষের অনুভূতির প্রতিফলন। প্রেম, বিরহ, আবেগ ও লোকজ জীবনের গল্পকে গানের কথায় তুলে ধরার কারণে তার সৃষ্টিগুলো সহজেই শ্রোতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করছে।
সংগীতাঙ্গনে মুনসুর সানীর এই ধারাবাহিক পথচলাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, নিজস্ব সৃষ্টিশীলতা ধরে রেখে নিয়মিত নতুন গান উপহার দিলে ভবিষ্যতে বাংলা লোক ও আধুনিক গানের জগতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবেন এই তরুণ গীতিকার ও সুরকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ