টালিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। কয়েক দিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে পদত্যাগের পরই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্যসভার সরকারি ওয়েবসাইটে সাংসদদের তালিকায় কোয়েল মল্লিকের নাম ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ ছেড়ে দেন।
পদত্যাগের পরই কোয়েলকে নয়াদিল্লির মতিলাল নেহরু রোডে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে কোয়েল মল্লিক কিংবা বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
জানা গেছে, সম্প্রতি বড় ভাইয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিদেশে ছিলেন কোয়েল। এ কারণে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে বলে জানা গেছে।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে কোয়েলকে কখনোই প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। তাই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণা অনেকের কাছেই ছিল চমকপ্রদ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় কোয়েল মল্লিকের পাশাপাশি ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সাবেক মহাপরিচালক রাজীব কুমার।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কয়েক দিন আগে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের বাসভবনে যান। পরে এপ্রিল মাসে দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন কোয়েল।
শপথ গ্রহণের পর কোয়েল বলেছিলেন, দেশের সেবা ও মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে তিনি সৌভাগ্যের বিষয় মনে করেন। এটিকে তিনি নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
সে সময় অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকও মেয়ের রাজনৈতিক যাত্রাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, কোয়েল সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করবেন।
তবে শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি কি বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন, নাকি সক্রিয় রাজনীতি থেকেই নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে কোয়েলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।