• সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

২ কোটির ‘হনুমান অংশ’-এর বিস্ময়কর উত্থান, পেছনে পড়ল ‘টক্সিক’ ও ‘মির্জাপুর’

ডেস্ক নিউজ / ১৮ পঠিত
আপডেট : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাত্র ২ কোটি রুপি বাজেটের একটি সিনেমা, নেই বড় তারকার ভরসা, নেই জাঁকজমকপূর্ণ প্রচারণা। তবু মুক্তির এক মাস পরও ভারতীয় বক্স অফিসে আলোচনার কেন্দ্রে ‘হনুমান অংশ’। দর্শকদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রশংসায় ছবিটি এখন ১০০ কোটির ক্লাবে পৌঁছানোর দ্বারপ্রান্তে।

গত ৭ আগস্ট মুক্তি পাওয়া ছবিটি প্রথম দিনে আয় করেছিল মাত্র ১০ লাখ রুপি। সেই ধীর সূচনায় অনেকেই ধারণা করেছিলেন, এটি হয়তো বক্স অফিসে টিকবে না। কিন্তু দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায়। তৃতীয় সপ্তাহে দর্শক চাহিদা এতটাই বেড়ে যায় যে হলসংখ্যা ও শো দুটোই বাড়াতে বাধ্য হন প্রদর্শকরা।

ইন্ডাস্ট্রি ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ৩১তম দিনে ভারতে ছবিটির মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ১১৭ কোটি ৪৬ লাখ রুপি, আর নিট সংগ্রহ ৯৯ কোটি ২৯ লাখ রুপি। অর্থাৎ নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় ছবিটি ইতোমধ্যেই ৫০ গুণের বেশি আয় করেছে।

পঞ্চম সপ্তাহেও ছবিটির দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ৫ হাজার ৫৫টি শোতে প্রদর্শিত হয়ে একদিনেই আয় করেছে ১০ কোটি রুপি। ওই দিন গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ৪৭ শতাংশ, যা নতুন মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক বড় বাজেটের ছবির চেয়েও বেশি।

‘হনুমান অংশ’-এর এই সাফল্যের প্রভাব পড়েছে যশ অভিনীত ‘টক্সিক’-এর ওপরও। মুক্তির সময় যেখানে ‘টক্সিক’ ২৪ হাজারের বেশি শো পেয়েছিল, দশম দিনে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২ হাজার ২২৫টিতে। বিপরীতে ‘হনুমান অংশ’ শুরু করেছিল মাত্র ৩৫৫টি শো নিয়ে, যা এখন বেড়ে ৫ হাজারেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর বহুল প্রতীক্ষিত ‘মির্জাপুর’ এবং ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’-এর মতো ছবিকেও আয়ের দৌড়ে পিছনে ফেলেছে এটি।

হিমালয়ের আধ্যাত্মিক গুরু নিম করৌলী বাবা-র জীবন অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি পরিচালনা ও প্রযোজনা করেছেন বিশাল চতুর্বেদী। ‘দ্য রোনক পডকাস্ট’-এ তিনি জানান, এই ছবির জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আত্মিক নিবেদনের একটি কাজ।

পরিচালক আরও জানান, শুটিং সেটে ছিল কিছু কঠোর নিয়ম। পুরো ইউনিটে কেবল নিরামিষ খাবারের অনুমতি ছিল, প্রতিদিন পাঠ করা হতো হনুমান চালিসা। এমনকি ছবি মুক্তির আগে প্রায় সাড়ে চার মাস তিনি নিজেও শুধু ফলমূল খেয়ে কাটিয়েছেন বলে জানান।

ছবিটির আরেকটি চমক এসেছে অভিনয় নির্বাচনেও। শোভিনাও সত্যা শুরুতে সহকারী পরিচালক হিসেবে ইউনিটে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু নিম করৌলী বাবার চরিত্রে নির্ধারিত অভিনেতা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশাল চতুর্বেদী তাকে অডিশনের সুযোগ দেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অডিশনের পরই শোভিনাও নির্বাচিত হন, আর সেই চরিত্রই এখন ছবিটির অন্যতম আলোচিত দিক হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ