• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন

রাজ-তুষিদের ক্যারিয়ারের শুরুর গল্প এবার চরকিতে

এম.আর.জে শান্ত / ২৫ পঠিত
আপডেট : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

একটি সিনেমা, তিন নতুন মুখ আর একঝাঁক তরুণের স্বপ্ন—দশ বছর আগে এই গল্প নিয়েই বড় পর্দায় এসেছিল ‘আইসক্রিম’। ২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি শরিফুল রাজ, নাজিফা তুষি ও কুমার উদয়ের অভিনয়জীবনের শুরুর স্মৃতি হয়ে আছে। নির্মাতা রেদওয়ান রনির হাত ধরে সেই সিনেমাই এবার ফিরছে নতুন মাধ্যমে। আগামীকাল ২০ অক্টোবর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে ‘আইসক্রিম’। এক দশক পর সিনেমাটি ফিরে আসায় পুরোনো দিনের স্মৃতিতে ফিরছেন এর অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা।

‘আইসক্রিম’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েকজন অভিনয়শিল্পীর প্রথম বড় পর্দায় পা রাখার অভিজ্ঞতা। সময়ের সঙ্গে তাঁদের ক্যারিয়ারে এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু শুরুর সেই দিনগুলোর স্মৃতি এখনো অমলিন। সিনেমাটির গান ‘বোকা চাঁদ’ ও ‘পথ’ও শ্রোতাদের মনে করিয়ে দিতে পারে সেই সময়ের কথা।

নাজিফা তুষির কাছে ‘আইসক্রিম’ বিশেষ একটি অধ্যায়। এই সিনেমার মাধ্যমেই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। তখন অভিনয়ের ইচ্ছা থাকলেও চলচ্চিত্রের বিশাল জগৎ সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। ইন্ডাস্ট্রির কাজের ধরন না বুঝেই অনেকটা স্বপ্নের টানে সিনেমাটিতে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি।

তুষি বলেন, ‘সিনেমা যে এত বড় একটি ক্যানভাস, তখন তা বুঝতাম না। ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কেও তেমন কিছু জানতাম না। শুধু জানতাম, অভিনয় করতে চাই। আমার কাছে মনে হয়েছিল, ‘আইসক্রিম’ একটি ভালো সিনেমা, আর রেদওয়ান রনি ভালো পরিচালক। সেই বিশ্বাস থেকেই কাজটি করা।

সিনেমাটি করার পর চলচ্চিত্র সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান তুষি। এক দশক পর ছবিটি আবার দর্শকেরা দেখতে পারবেন, বিষয়টি তাঁকে আনন্দিত করছে। তবে সিনেমাটি নির্মাণের পর এতটা সময় পেরিয়ে গেছে, সেটি ভাবলেও অবাক হন তিনি। দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, যাঁরা আগে দেখেছেন, তাঁরা আবার দেখুন; আর যাঁরা দেখেননি, তাঁরা এবার সুযোগটি কাজে লাগান।

কুমার উদয়ের কাছেও ‘আইসক্রিম’ মানে রঙিন এক স্মৃতির অধ্যায়। বর্তমানে মঞ্চনাটকে ব্যস্ত এই অভিনেতার মনে এখনো উজ্জ্বল হয়ে আছে সিনেমাটির কাজ শুরুর আগের দিনগুলো। রাজ ও তুষির সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব এবং একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে বিশেষভাবে মনে রেখেছেন তিনি।

নির্মাতা রেদওয়ান রনির কাছেও সিনেমাটির ফিরে আসা আবেগের। তাঁর ভাষায়, দশ বছর আগে ‘আইসক্রিম’ নির্মাণের পেছনে ছিল একদল তরুণের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও সীমাহীন আবেগ। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও সিনেমাটির বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা এখনো অনুভব করেন তিনি। চরকিতে মুক্তির মধ্য দিয়ে পুরোনো সেই কাজ নতুন করে দর্শকের কাছে পৌঁছাবে—এটাই তাঁর আনন্দ।

রনি জানান, প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখতে পারেননি এমন দর্শক, এমনকি দেশের বাইরে থাকা দর্শকেরাও এবার চরকিতে এটি দেখার সুযোগ পাবেন। তাঁর কাছে বিষয়টি পুরোনো স্বপ্নের নতুন করে ফিরে আসার মতো।

শরিফুল রাজের ক্যারিয়ারেও ‘আইসক্রিম’-এর গুরুত্ব আলাদা। এক দশক আগের নিজের সঙ্গে বর্তমান সময়ের রাজের পার্থক্য থাকলেও এই সিনেমাকে নিজের পথচলার ভিত্তি হিসেবে দেখেন তিনি। শুটিংয়ের সময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর নার্ভাসনেস, নির্মাতা রেদওয়ান রনির নির্দেশনা এবং সেটের নানা মুহূর্ত এখনো মনে পড়ে তাঁর।

রাজ বলেন, দশ বছর আগের রাজ আর আজকের রাজের মধ্যে নিশ্চয়ই পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু ‘আইসক্রিম’ আমার জীবনের সেই ভিত্তি, যা আমাকে আজকের জায়গায় আসতে সাহায্য করেছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে যে আগ্রহ আর ভালোবাসা নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলাম, দর্শকেরা এবার সেই দিনগুলো দেখতে পাবেন।

একসময় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি এবার ওটিটির পর্দায় নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছানোর অপেক্ষায়। পুরোনো দর্শকের কাছে এটি ফিরিয়ে আনবে এক দশক আগের স্মৃতি, আর নতুন দর্শকেরা দেখতে পাবেন রাজ, তুষি ও উদয়ের অভিনয়জীবনের শুরুর অধ্যায়। আজ চরকিতে ‘আইসক্রিম’-এর মুক্তি তাই শুধু একটি পুরোনো সিনেমা ফিরে দেখা নয়, বরং দশ বছর আগের একদল তরুণের স্বপ্ন ও যাত্রাকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ