• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন

নিখোঁজ ছেলের অপেক্ষা, চার দিন পর দাফন নাসিমা খানের

অনলাইন ডেস্ক / ২৬ পঠিত
আপডেট : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে পরিচিতি পেয়েছিলেন অভিনেত্রী নাসিমা খান। অথচ জীবনের শেষ বিদায়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এফডিসিতেও নেওয়া হয়নি তাঁর মরদেহ। দুই ছেলের ফেরার অপেক্ষায় মৃত্যুর পর চার দিন হিমঘরে রাখা হয়েছিল তাঁকে। বড় ছেলে দেশে ফিরলেও শেষ পর্যন্ত নিখোঁজ ছোট ছেলের আর ফেরা হয়নি। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে দাফন করা হয় এই অভিনেত্রীকে।

গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় মারা যান নাসিমা খান। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থান মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে ওই কবরস্থানেই তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান, অভিনেতা আরজু, নাসিমা খানের বড় ছেলে শাবাব নাসিম রহমান এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা।

নাসিমা খানের দুই ছেলে শাবাব নাসিম রহমান ও নাবিল নাছির রহমান কুশল। বড় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। অন্যদিকে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের নিরিবিলি স্বপ্নবিলাস এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ছোট ছেলে কুশল। এরপর থেকে তাঁর সন্ধান মেলেনি। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেত্রী। ছেলের খোঁজ চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন একাধিকবার।

দুই ছেলের অপেক্ষাতেই মৃত্যুর পর নাসিমা খানের মরদেহ চার দিন হিমঘরে রাখা হয়েছিল। বড় ছেলে দেশে ফিরলেও মায়ের শেষ বিদায়ে থাকতে পারেননি নিখোঁজ কুশল। শেষ পর্যন্ত ছোট ছেলেকে ছাড়াই দাফন করা হয় অভিনেত্রীকে।

এ বিষয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান বলেন, নাসিমা খানের দুই ছেলের অপেক্ষায় তাঁর মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়। কিন্তু বড় ছেলে ফিরলেও দেখা মেলেনি ছোট ছেলের। এ ছাড়া আমাদের সিনেমার বড় কোনো তারকাও তাঁর জানাজার নামাজে অংশ নেননি। আমি চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়মিত আপডেট জানানোর। এখন কেউ যদি নিজ থেকে না আসে, তাহলে আর কী করার থাকতে পারে।

১৯৫৯ সালে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় নাসিমা খানের। এরপর ১৯৬১ সালে ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পরিচিতি পান তিনি। ষাটের দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন তিনি। পর্দায় তাঁর সর্বশেষ উপস্থিতি ছিল ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘কুসুম কুসুম প্রেম’ সিনেমায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ