বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান তার ক্যারিয়ারের শুরুতে কতটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, তা আবারও উঠে এলো তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে। নিজের যাত্রার সেই অধ্যায় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এক সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন যে আয়নায় নিজের দিকে তাকাতেও অস্বস্তি লাগত।
বিদ্যা বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তাকে একাধিকবার অডিশন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মোট ১৩টি প্রজেক্ট থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা তার ছিল। কিছু সিনেমা মুক্তির পর নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এমনও বলা হয়েছিল যে, তার উপস্থিতির কারণেই নাকি প্রজেক্টগুলো ভালো হয়নি। এই ধরনের মন্তব্য ও বারবার প্রত্যাখ্যান তার আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেয়। এক পর্যায়ে তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে ‘অলক্ষুণে’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, সেই সময় মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে প্রায়ই কাঁদতে কাঁদতে রাত কাটাতেন। তবে সবকিছুর মধ্যেও তিনি থেমে যাননি। ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন এবং সময়ের সঙ্গে প্রমাণ করেছেন নিজের দক্ষতা।
ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল ছোটপর্দার জনপ্রিয় সিরিজ ‘হাম পাঁচ’ দিয়ে। এরপর দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে একটি প্রজেক্টের অডিশন দিতে গিয়ে বড় ধরনের একটি পরিবর্তনের মুখোমুখি হন তিনি। তবে সেই সময়ের একাধিক প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আরও কিছু সুযোগ হাতছাড়া হয়।
পরবর্তীতে ২০১০ সালের পর বদলে যায় বিদ্যা বালানের ক্যারিয়ার গ্রাফ। ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’, ‘কাহানি’, ‘দ্য ডার্টি পিকচার’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে তিনি দর্শক ও সমালোচক দুই মহলেই প্রশংসা কুড়ান। বিশেষ করে ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। এরপর ‘তুমহারি সুলু’, ‘শকুন্তলাদেবী’, ‘শেরনি’ এবং সর্বশেষ ‘ভুল ভুলাইয়া ৩’-এর মতো সিনেমায় তার উপস্থিতি তাকে বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।