বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাজিফা তুষি মনে করেন, সমাজ এখনো নারীদের একটি নির্দিষ্ট ছকে দেখতে অভ্যস্ত। সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একজন নারী কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করবেন, কীভাবে সাজবেন কিংবা জীবনযাপন করবেন, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে সমাজ অনেক সময় নারীদের জন্য কিছু অলিখিত প্রত্যাশা তৈরি করে দেয়।
তুষির ভাষ্য, যখন তার সাজতে ইচ্ছা করবে তখন তিনি সাজবেন, আর না চাইলে করবেন না। তবে সমাজের তৈরি করা কাঠামোর মধ্যে নিজেকে সবসময় মানিয়ে নেওয়ার চাপ তিনি সমর্থন করেন না। তার মতে, এসব বিষয় নিয়ে নারীদের আরও বেশি খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন এবং নিজের মতো থাকার আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা জরুরি।
সাক্ষাৎকারে সামাজিক মাধ্যম নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিবেশ তার কাছে অস্বস্তিকর মনে হয়। এমনকি কখনো কখনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে দেওয়ার কথাও ভাবেন। কারণ, মানুষের ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক, ছবি কিংবা লুক নিয়ে অবিরাম মন্তব্য ও সমালোচনার সংস্কৃতি তাকে বিরক্ত করে।
নায়িকাদের নিয়ে সমাজে প্রচলিত কিছু ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তুষি। তিনি বলেন, একজন অভিনেত্রী মানেই সবসময় নিখুঁতভাবে সেজে-গুজে থাকতে হবে, এমন ধারণা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। একজন শিল্পীকে পুতুলের মতো নির্দিষ্টভাবে দেখার প্রবণতা অনেক সময় তার কাছে বাড়তি বোঝা বলে মনে হয়।
তুষির মতে, একজন মানুষের পরিচয় তার বাহ্যিক সাজসজ্জার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রকৃত সাহস বা ‘বোল্ডনেস’ মেকআপ কিংবা পোশাকে নয়, বরং নিজের পরিচয় ও ব্যক্তিত্বকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করার মধ্যেই নিহিত।
একই সঙ্গে নারী ও পুরুষের প্রতি সমাজের ভিন্ন প্রত্যাশার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, নারীদের চেহারা, পোশাক ও উপস্থাপন নিয়ে যে মাত্রার চাপ তৈরি করা হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তাই সময় এসেছে বাহ্যিক রূপের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের স্বতন্ত্র সত্তা ও আত্মবিশ্বাসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার।