অভিনয়ের মঞ্চ থেকে নির্মাণ, লেখালেখি, চিত্রকলা কিংবা বিজ্ঞাপন নির্মাণ—সৃজনশীলতার নানা ক্ষেত্রে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন আফজাল হোসেন। দীর্ঘ এই সৃজনযাত্রার স্বীকৃতি এবার মিলল প্রাতিষ্ঠানিক সম্মাননায়। বরেণ্য এই শিল্পীকে ‘সৃজনকলা গুণীজন সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান করেছে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আফজাল হোসেনের হাতে সম্মাননা স্মারক ও মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা গ্রহণের পর নিজের শিল্পীজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও সৃজনযাত্রার গল্প শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নেরও উত্তর দেন এই অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রশিল্পী।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই আফজাল হোসেনের কর্মময় জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন নাট্যকলা বিভাগের প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক। এরপর মানপত্র পাঠ করেন সংগীত বিভাগের প্রভাষক নিশাত তাবাসসুম।
আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান রবিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী (বীর বিক্রম), স্বর্ণকিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফারজানা রশীদ ব্রাউনিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মনিরা পারভীন।
স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক একাডেমিক উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রাফিউল ইসলাম আফজাল হোসেনের সৃজনশীল অবদানের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
আফজাল হোসেনকে সম্মাননা দেওয়ার প্রসঙ্গে রবিন খান বলেন, তিনি শুধু অভিনেতা, নির্মাতা কিংবা চিত্রশিল্পী নন, সময়ের একজন বহুমাত্রিক সৃজনশীল প্রতিভা। তাঁর কাজ যেমন মানুষকে আনন্দ দিয়েছে, তেমনি ভাবিয়েছে এবং সৌন্দর্যকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করেছে। এমন একজন শিল্পীকে সম্মান জানাতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত।
সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। নাট্যকলা, সংগীত, নৃত্যকলা ও ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নাটিকা, দলীয় সংগীত, নৃত্য ও ফ্যাশন শো পরিবেশন করেন। সংগীত বিভাগের প্রভাষক কানিজ খন্দকার মিতু পরিবেশন করেন লালনগীতি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক ও সমন্বয়কারী নিগার সুলতানা।
‘সৃজনকলা গুণীজন সম্মাননা’ রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবর্তিত একটি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ। ২০২৬ সালে চালু হওয়া এই সম্মাননার লক্ষ্য দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া। একই সঙ্গে তাঁদের শিল্পভাবনা, কর্ম ও সৃজনশীল উত্তরাধিকার নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।