গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে ‘ইতি রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক এক সঙ্গীত ও আবৃত্তি সন্ধ্যার আয়োজন করেছে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশন ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)। বুধবার (৬ আগস্ট) ঢাকার গুলশান-২-এর ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সঙ্গীত ও দর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী। বক্তব্যে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বজনীন মানবতাবাদ, সাহিত্য, দর্শন এবং মানবকল্যাণে তাঁর অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী স্বপ্নীল সজীব এবং আবৃত্তি পরিবেশন করেন নন্দিত আবৃত্তিশিল্পী সামিউল ইসলাম পোলাক।
শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে নিজের পরিবেশনা শুরু করেন স্বপ্নীল সজীব। এরপর তিনি একে একে পরিবেশন করেন ‘আগুনের পরশমণি’, ‘আমার হিয়ার মাঝে’, ‘তুমি রবে নীরবে’, ‘ও যে মানে না মানা’, ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান’, ‘ভরা বাদর’, ‘মাঝে মাঝে তব দেখা পাই’, ‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে’, ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি’, ‘লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’, ‘আজি ঝড়ের রাতে’ এবং ‘সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে’।
অন্যদিকে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের মাধ্যমে আবৃত্তি পর্ব শুরু করেন সামিউল ইসলাম পোলাক। পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের ‘আরোগ্য’, ‘মরণ’, ‘মৃণালিনী দেবীকে লেখা চিঠি’, ‘নিমন্ত্রণ’, ‘কৃপণ’, ‘গীতাঞ্জলি’, ‘ভ্রষ্টলগ্ন’, ‘শেষের কবিতা’ এবং ‘ভানুসিংহের পদাবলী’ থেকে নির্বাচিত অংশ আবৃত্তি করেন। তাঁর পরিবেশনায় রবীন্দ্রচিন্তার প্রেম, ভক্তি, জীবন, মৃত্যু ও আত্মজিজ্ঞাসার গভীর দর্শন অনুরণিত হয়।
রবীন্দ্রসংগীতের অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পী স্বপ্নীল সজীব বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সংগীত পরিবেশন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের দুটি জাতীয় পুরস্কারসহ ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-শ্যাম্পেইন এবং ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটায় অতিথি প্রভাষক হিসেবেও আমন্ত্রিত হয়েছেন।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী সামিউল ইসলাম পোলাক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার ব্যাখ্যামূলক আবৃত্তির জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত। রবীন্দ্রনাথের ‘ঝুলন’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার তাঁর পরিবেশনা ইউনেস্কো কর্তৃক সম্মানিত হয়েছে। তাঁর আবৃত্তির অ্যালবাম প্রকাশ করেছে ভারতের সারেগাম এইচএমভি ও হিন্দুস্থান রেকর্ডস। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আয়োজনে কলকাতার রবীন্দ্রসদনে তাঁর একক আবৃত্তি অনুষ্ঠানও ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ফেম অ্যাওয়ার্ড (বিফা), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা স্মারক, টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ভারতীয় হাই কমিশন, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তিনি প্রশংসাপত্র লাভ করেছেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে আমন্ত্রিত শিল্পীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ভারতের হাই কমিশনার শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক এন মেরী জর্জ। ‘ইতি রবীন্দ্রনাথ’ আয়োজনের মাধ্যমে ভারতীয় হাই কমিশন ও আইজিসিসি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরন্তন সাহিত্য, সঙ্গীত ও দর্শনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে।