বাংলাদেশের মুকুটজয়ী সুন্দরী সামানজার সাঈদের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬-এর মঞ্চে লড়বেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই শনিবার (৮ আগস্ট) ভিয়েতনামের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন এই তরুণী।
ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে রবিবার (৯ আগস্ট) শুরু হচ্ছে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক আয়োজন। কয়েক সপ্তাহব্যাপী নানা পর্ব শেষে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর হো চি মিন সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড ফিনালে। সেখানেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সামানজার।
এই যাত্রাকে জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। সামানজার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে টেলিভিশনে সুন্দরী প্রতিযোগিতা দেখতাম। তখন কখনো ভাবিনি, একদিন নিজেই এমন একটি আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাব। আমি চাই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের সেরাটা তুলে ধরে দেশের জন্য গর্বের কারণ হতে।’
ঢাকায় বেড়ে ওঠা সামানজার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেছেন। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর নতুন একটি অভিজ্ঞতা অর্জনের ইচ্ছা থেকেই তিনি মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এ নাম লেখান। প্রথম অংশগ্রহণেই বিচারকদের মুগ্ধ করে জিতে নেন বিজয়ের মুকুট।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে গত কয়েক মাস ধরে ব্যক্তিত্ব বিকাশ, জনসমক্ষে উপস্থাপনা এবং যোগাযোগ দক্ষতা নিয়ে নিবিড় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, মিস ওয়ার্ল্ড কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা নয়, বরং একজন নারীর আত্মবিশ্বাস, বুদ্ধিমত্তা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতারও মূল্যায়ন।
শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গেও রয়েছে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। চার বছর কথক ও ভরতনাট্যম নৃত্যের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন সামানজার। অবসরে গান শোনা, নাচ, খেলাধুলা ও চলচ্চিত্র দেখতে পছন্দ করেন। ভবিষ্যতে শক্তিশালী গল্প ও ব্যতিক্রমী চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেলে সেই পথেও হাঁটতে চান তিনি।
এবার সেই স্বপ্নকে সঙ্গী করেই বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উঁচিয়ে ধরার অপেক্ষায় সামানজার সাঈদ।