জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর শুধু গানেই নয়, সমসাময়িক নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যুতেও বরাবরই সরব। এবার তিনি বিনোদনকে বাংলাদেশের ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ লিখেছেন, জনবহুল বাংলাদেশে মানুষের বিনোদনের বড় ধরনের সংকট রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে সুস্থ বিনোদনের কোনো বিকল্প নেই। তার মতে, বিনোদনের অভাব মানুষের মধ্যে হতাশা, জিঘাংসা ও সহিংসতার প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মননশীলতার বিকাশ ঘটানোই এ সমস্যা থেকে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর পথ।
পোস্টে তিনি সংগীতাঙ্গনের উন্নয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন। আসিফ জানান, ১৯৭৯-৮০ সালে চট্টগ্রামের সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে এক বৈঠকে জিয়াউর রহমান দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের পাশাপাশি পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রের চর্চাকে উৎসাহিত করেন এবং এসব যন্ত্রের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেন। তার দাবি, সেই সিদ্ধান্তের ফলেই নব্বইয়ের দশকে দেশের ব্যান্ড সংগীতে এক ধরনের বিপ্লব ঘটে।
বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক বাজেটে পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রের ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানিয়েছেন এই শিল্পী। তিনি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সংগীতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে বাস্তব বাদ্যযন্ত্রের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে, যা দেশের সংগীতের ভিত্তিকে শক্তিশালী করবে।
আসিফ আরও উল্লেখ করেন, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের মধ্যে ১৩টি মুসলিম দেশ। বিশ্বের মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সমানতালে পরিচালিত হচ্ছে। তাই পশ্চাৎপদতার পথে না গিয়ে বিশ্বমানের সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষ্য, শিশুদের সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করা একটি মৌলিক অধিকার। একটি মানবিক, সৃজনশীল ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বিনোদনের বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে সরকার দেশজুড়ে পরিকল্পিত ও টেকসই সাংস্কৃতিক বিপ্লবের উদ্যোগ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আসিফ আকবরের এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেক নেটিজেন তার মতের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সুস্থ বিনোদন ও সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আবার কেউ কেউ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনার জন্য জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।