অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি, বিশেষ করে একজন নারী বা শিল্পীকে মবের শিকার করা একটি সভ্য সমাজে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিয়া জান্নাতুল বলেন, আজ শাওন আপার সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা শুধু শাওন আপার বিষয় নয়। যে-ই হোক, কোনো নারী বা পুরুষ যদি মবের শিকার হন, আমাদের সবার উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করা প্রয়োজন। একটি সভ্য সমাজে মবের সংস্কৃতির কোনো স্থান নেই।
তিনি আরও বলেন, একজন শিল্পীও একজন নাগরিক। তাই অন্য সবার মতো তারও রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তার ভাষায়, আমাদের অনেক শিল্পীই বিভিন্ন সময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেউ সুবিধা পেয়েছেন, কেউ আবার নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। এটি রাজনৈতিক বাস্তবতারই অংশ। কিন্তু একজন শিল্পী যখন এফডিসিতে আসেন, তখন তিনি প্রথমত একজন শিল্পী। কোনো শিল্পী সমস্যায় পড়লে অন্য শিল্পীদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো।
প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মেহের আফরোজ শাওন। সেখানে তিনি লেখেন, “আজ যেহেতু পয়লা জুলাই, তাই আমিও লিখলাম #জুলাইCDI…”। পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পোস্টটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানান। জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি) শাওনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। দলটির অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে তার মন্তব্য উসকানিমূলক এবং জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের প্রতি অবমাননাকর।
এ দাবির পক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘মেহের আফরোজ শাওনের জুলাইবিরোধী অবস্থান ও উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে’ একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহ উদ্দীন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাওনকে লক্ষ্য করে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেন। গত মঙ্গলবার (১ জুলাই) রাতে প্রকাশিত ওই পোস্টে তিনি শাওনকে লাঞ্ছিত ও আহত করার আহ্বান জানান এবং অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেন। পোস্টটি প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।