বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াত। ভোট দেওয়ার পর তিনি নির্বাচন-পরবর্তী কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা আদালতমুখী পরিস্থিতি এড়িয়ে সবাইকে চলচ্চিত্রের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবুল হায়াত বলেন, আমার প্রত্যাশা হলো, নির্বাচনের পর যে প্যানেল বা যারা বিজয়ী হয়ে আসবেন, তারা যেন ব্যক্তিগত বিরোধ বা কাদা-ছোড়াছুড়ি ভুলে দেশের চলচ্চিত্রের জন্য একসঙ্গে কাজ করেন। সবাই মিলে কাজ করতে পারলেই ভালো কিছু সম্ভব।
বিগত কয়েকটি নির্বাচনের পর দেখা দেওয়া আইনি জটিলতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভোট শেষ হওয়ার পর যদি আবার কোর্ট-কাচারি, আদালত নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়, তাহলে পরিস্থিতি আগের মতোই থেকে যাবে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আমরা কেউই চাই না।
এবারের নির্বাচনের পরিবেশ নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তিনি বলেন, আমি যখনই ভোট দিতে আসি, সব সময়ই সুন্দর পরিবেশ দেখি। এবারও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা চোখে পড়েনি। নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর পরিবেশে হচ্ছে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
ভোট দিয়ে বের হওয়ার পর বিএফডিসির ৭ নম্বর ফ্লোরের ক্যান্টিনের সামনে তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। সেখানে দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি হন দুই বর্ষীয়ান অভিনেতা আবুল হায়াত ও কাজী হায়াত। একে অপরের হাত ধরে কুশল বিনিময় করেন, খোঁজ নেন শারীরিক অবস্থার।
আবেগঘন সেই আলাপে কাজী হায়াত বলেন, আমার শরীরটা এখন আর ঠিক নেই। শুনলাম আপনিও সবেমাত্র ক্যানসার থেকে সেরে উঠেছেন। পরস্পরের শারীরিক অবস্থার কথা শুনে দুজনেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বিদায়ের আগে একে অপরের সুস্থতা কামনা করে দোয়া চান।
এর আগে ভোট দিয়ে কাজী হায়াতও নবনির্বাচিত কমিটির প্রতি শিল্পীদের কল্যাণে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এবারের ভোটের পরিবেশ খুব শান্ত, সুন্দর এবং হৃদ্যতাপূর্ণ। দুই পক্ষই ইতিবাচকভাবে ভোট চাইছে। কেউ ফুল দিচ্ছে, কেউ চকলেট দিচ্ছে। সব মিলিয়ে নির্বাচনটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নতুন নেতৃত্বের উদ্দেশে কাজী হায়াত বলেন, শিল্পী সমিতির ফান্ড বর্তমানে অনেক কম। এটি বাড়াতে হবে এবং সমিতিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিল্পীদের কল্যাণে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা।