অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফটের কনসার্টে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার দায়ে ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
অস্ট্রিয়ার গোপনীয়তা আইনের কারণে অভিযুক্তের পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। আদালতের নথিতে তাকে ‘বেরান এ’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট একাধিক অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে ভিয়েনায় টেইলর সুইফটের বহুল আলোচিত ‘ইরাস ট্যুর’-এর তিনটি কনসার্ট আয়োজনের কথা ছিল। প্রথম কনসার্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে অস্ট্রিয়ান কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয় তিনটি কনসার্টই। এসব অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় দুই লাখ দর্শক টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন।
আদালতে প্রসিকিউটররা জানান, বেরান এ জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন এবং হামলার উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালান। তিনি একটি মেশিনগান ও হ্যান্ড গ্রেনেড কেনার উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।
মামলার শুনানিতে আদালতের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পিটার হফম্যান বলেন, অভিযুক্তের মধ্যে কোনো মানসিক রোগের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রেও মানসিক অসুস্থতার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
একই মামলায় অভিযুক্ত ২১ বছর বয়সী স্লোভাক নাগরিক আরদা কে-কে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি ইসলামিক স্টেটের একটি সেলের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে টেইলর সুইফটের কনসার্টে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
রায় ঘোষণার আগে আদালতে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন বেরান এ।
ঘটনার পর টেইলর সুইফট বলেছিলেন, হামলার পরিকল্পনার খবর তাকে নতুন ধরনের ভয় ও উদ্বেগের মুখোমুখি করেছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাদের তৎপরতার কারণেই সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ফলে ভক্তদের কেবল বাতিল হওয়া কনসার্টের হতাশা নিয়েই ফিরতে হয়েছে, কোনো প্রাণহানির শোক নয়।
সূত্র: বিবিসি