বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতীকী কবিতা ‘বনলতা সেন’ শুধু একটি লেখা নয়, বরং পাঠকের কল্পনায় গড়ে ওঠা এক চিরকালীন অনুভূতি। কবি জীবনানন্দ দাশের এই বিখ্যাত কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালের ডিসেম্বরে, বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায়। পরে ১৯৪২ সালে এটি কাব্যগ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হলে আরও বিস্তৃত পাঠকপ্রিয়তা পায়।
দীর্ঘ সময় ধরে পাঠকের কল্পনায় থাকা এই চরিত্র এবার বড় পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছে একই নামে নির্মিত চলচ্চিত্রে। সরকারি অনুদানে নির্মিত সিনেমাটি ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রযোজনা সহায়তা পায় এবং ঈদুল আজহায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিচালনায় আছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল।
কবিতার বিমূর্ত জগৎকে সিনেমার ভাষায় রূপ দিতে গিয়ে নির্মাতা বাস্তবতা ও রূপকের এক মিশ্র আখ্যান তৈরি করেছেন। এতে ‘বনলতা সেন’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাসুমা রহমান নাবিলা। জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে দেখা যাবে খায়রুল বাশারকে।
চলচ্চিত্রটিতে আরও অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়েত, সোহেল মণ্ডল, নাজিবা বাশার, প্রিয়ন্তী উর্বী, রূপন্তী আকিদ ও শরীফ সিরাজসহ একঝাঁক অভিনয়শিল্পী।
ইতোমধ্যে সিনেমাটির ট্রেলার ও টিজার প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। সেখানে ৫৪ সেকেন্ডের ঝলকটি ঘিরে তৈরি হয় আলাদা আগ্রহ। লাল শাড়ি পরা এক নারীর উপস্থিতি, ধোঁয়াটে দৃশ্যপট আর রহস্যময় আবহ মিলিয়ে বোঝা যায়—এটি শুধু কবিতার অনুবাদ নয়, বরং এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্মিত সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা।
টিজারে দেখা যায় এক অনন্ত যাত্রার ইঙ্গিত, যেখানে হাজার বছর ধরে হেঁটে চলা এক মানুষের ছায়া জীবনানন্দের কবিতার সেই ক্লান্ত-স্বপ্নময় পৃথিবীকে নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে কিছু অস্পষ্ট চরিত্র ও দৃশ্য কৌতূহল বাড়িয়ে তোলে, যা গল্পের রহস্য আরও গভীর করে।
সব মিলিয়ে কবিতা, স্মৃতি, নিঃসঙ্গতা আর কল্পনার মিশেলে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।