• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন

প্রতারণার অভিযোগে চিত্রনায়িকা ববির স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ / ৫৬ পঠিত
আপডেট : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে নাটকীয় অভিযানে বহুল আলোচিত প্রতারণা মামলার আসামি মির্জা আবুল বাশার মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া আবুল বাশার চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে গুলশান-২ এর ২৮ নম্বর সড়কে অবস্থিত তার বাসা ঘিরে রাখা হয়। শনিবার সকালে তল্লাশির সময় বাথরুমের পেছনে বিশেষভাবে নির্মিত একটি গোপন সুড়ঙ্গ থেকে তাকে আটক করা হয়। ওই সুড়ঙ্গেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান জানান, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণার পাশাপাশি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। গুলশান থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও গত বছরের অক্টোবরে আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মুক্তির পর আবারও বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

কে এই আবুল বাশার?

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম আউলিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘বিটিএল গ্রুপ’ (BTL Group) নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক সুযোগ, জমি বরাদ্দ, চাল ও তেলের ডিলারশিপসহ নানা সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতেন তিনি। প্রতিশ্রুত সুবিধা না পেয়ে অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ ভবিষ্যতের আশায় জমি-জমা বিক্রি করে কিংবা সঞ্চিত অর্থ তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন। রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে আবুল বাশার প্রতিষ্ঠিত বলে পরিচিত বিটিএল গ্রুপের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়ম ও পাওনা অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত কোরবানির ঈদের আগে একটি এগ্রো খামার থেকে আটটি গরু নেওয়ার পর ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দেওয়া হয়েছিল, যা পরে ব্যাংকে উপস্থাপনের পর বাউন্স করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ