সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘দেবদাস’ ছবিতে চন্দ্রমুখী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন মাধুরী দীক্ষিত। বিশেষ করে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সঙ্গে তার পরিবেশিত ‘দোলা রে দোলা’ গানটি আজও বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নৃত্য পরিবেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, ‘দেবদাস’-এর শুটিং চলাকালীন মাধুরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। ফলে নাচের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে তাকে বেশ কষ্ট পোহাতে হয়েছিল।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এমন তথ্যের কোনো সত্যতা নেই।
মাধুরী বলেন, আমার বড় ছেলে অরিনের জন্ম ২০০৩ সালে। তাই সময়ের হিসাব করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ‘দেবদাস’ মুক্তি পায় ২০০২ সালের জুলাই মাসে। ছবিটির শুটিং শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে এবং শেষ হয় ২০০২ সালের এপ্রিলে। অন্যদিকে মাধুরীর প্রথম সন্তান অরিনের জন্ম ২০০৩ সালের মার্চে। ফলে শুটিংয়ের সময় তার অন্তঃসত্ত্বা থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
মূলত এই দাবি করেছিলেন প্রয়াত কোরিওগ্রাফার সরোজ খানের সাবেক সহযোগী রুবিনা খান। তার ভাষ্য ছিল, ‘দোলা রে দোলা’ গানের শুটিংয়ের সময় মাধুরী চার মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং সে কারণে নাচের দৃশ্যে কিছুটা অসুবিধায় পড়েছিলেন।
তবে মাধুরী স্বীকার করেছেন যে শুটিংটি বেশ পরিশ্রমসাধ্য ছিল। কিন্তু সেই কষ্টের সঙ্গে গর্ভাবস্থার কোনো সম্পর্ক ছিল না।
অভিনেত্রী বলেন, সেই সময় আমাকে বারবার দেশ-বিদেশে যাতায়াত করতে হতো। অধিকাংশ শুটিংও হতো রাতে। ফলে কাজটা বেশ ক্লান্তিকর ছিল। আমি কিছুটা অসুস্থ অনুভব করছিলাম, কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম না।
‘দেবদাস’ ছিল মাতৃত্বকালীন বিরতিতে যাওয়ার আগে মাধুরী দীক্ষিতের শেষ বড় বাজেটের সিনেমাগুলোর একটি। ১৯৯৯ সালে চিকিৎসক শ্রীরাম নেনেকে বিয়ে করার পর ২০০৩ সালে মা হন এই অভিনেত্রী। এরপর কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও পরবর্তীতে আবারও নিয়মিতভাবে পর্দায় ফিরেছেন তিনি।