• বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

সিনেমার বাজার তৈরিতে ডিস্ট্রিবিউশনের ভূমিকা নিয়ে তপু খান

এম.আর.জে শান্ত / ৩৭ পঠিত
আপডেট : বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

একটি সিনেমা নির্মাণ শেষ হলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। বরং নির্মাণের পর শুরু হয় দর্শকের কাছে সিনেমাটি পৌঁছে দেওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সঠিক বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন, হল নির্বাচন ও দর্শক তৈরির কৌশল একটি চলচ্চিত্রের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। চলচ্চিত্রের এই নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা ও পরিবেশনা কৌশল নিয়েই আয়োজিত হয়েছে দিনব্যাপী কর্মশালা ‘বিয়ন্ড দ্য স্ক্রিন: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখির যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় মেন্টর হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তপু খান। শাকিব খান অভিনীত ‘আমিই বাংলাদেশ’ সিনেমার এই পরিচালক তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রডাকশন থেকে শুরু করে দর্শকের কাছে সিনেমা পৌঁছানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপ নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

চলচ্চিত্রের বাজার তৈরি, দর্শক সম্পৃক্ততা, বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সিনেমা পরিবেশনার বাস্তব নানা দিক তুলে ধরেন তপু খান। এ সময় ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরের ভূমিকা, ডিস্ট্রিবিউশন কৌশল, হল নির্বাচন ও বুকিং, প্রযোজক-পরিবেশক-প্রদর্শকের সম্পর্ক, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক অবস্থান নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

কর্মশালার বিশেষ একটি অধিবেশনে ‘সিনেমা পরিবেশনা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক’ বিষয়ে আলোচনা করেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা। চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে দর্শকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে পেশাদার যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।

আলোচনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সিনেমা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, চলচ্চিত্রের সম্ভাবনাময় দর্শক শুধু ঢাকা বা বড় শহরগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলেও রয়েছে সিনেমার বড় দর্শকগোষ্ঠী। তাই একটি চলচ্চিত্রের সাফল্য শুধু নির্মাণের মানের ওপর নির্ভরশীল নয়, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সেটি কত বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া চলচ্চিত্র পরিবেশনার নৈতিকতা নিয়েও আলোচনা হয়। স্বচ্ছ রাজস্ব বণ্টন, সঠিক বক্স অফিস রিপোর্টিং, ন্যায্যভাবে স্ক্রিন বরাদ্দ, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা, কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষা এবং অনুমোদিত সংস্করণ প্রদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক ম. জাভেদ ইকবাল। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী সরকার।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও কর্মশালায় অংশ নেন।

দিনব্যাপী কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে নজর দিলেই হবে না। পোস্ট-প্রডাকশন, বিপণন, ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রদর্শনসহ চলচ্চিত্রের পুরো ব্যবস্থাপনাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

নতুন ও সম্ভাবনাময় নির্মাতা, প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের চলচ্চিত্রের বাজার, নির্মাণ-পরবর্তী কার্যক্রম ও ডিস্ট্রিবিউশন সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান দেওয়ার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয় ‘বিয়ন্ড দ্য স্ক্রিন: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ কর্মশালাটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ