• রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
Headline
৬১ বছর বয়সে তৃতীয়বার বিয়ে, গৌরীর হাত ধরে নতুন ইনিংস শুরু আমির খানের ত্রিদেশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে প্রধান বিচারক মোশাররফ করিম দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানিয়ে মা হওয়ার ঘোষণা মৌসুমী হামিদের ভোট বিক্রির অভিযোগ তুলে আল্লাহর কাছে বিচার চাইলেন পলি শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির জয়: প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পরিকল্পনা বদলে বড় পর্দায় অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ নতুন নেতৃত্বে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি: সভাপতি শিবা শানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী শাওনকে মবের শিকার করার প্রতিবাদে মুখ খুললেন পিয়া জান্নাতুল হঠাৎ হুইলচেয়ারে পরীমণি, রহস্য ঘিরে নানা জল্পনা জয়-পরাজয় ভুলে চলচ্চিত্রের স্বার্থে এক হওয়ার আহ্বান আবুল হায়াতের

মিঠুন শুধু সহশিল্পী নন, পরিবারের একজন ছিলেন: দেবশ্রী

ডেস্ক নিউজ / ৪১ পঠিত
আপডেট : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

টালিউড ও বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিন উপলক্ষে দীর্ঘদিনের সহশিল্পী ও ঘনিষ্ঠজন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় শেয়ার করেছেন তাদের সম্পর্কের নানা অজানা স্মৃতি। স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে প্রথম পরিচয়, দুষ্টুমিভরা শুটিংয়ের দিনগুলো, পারিবারিক বন্ধন এবং মিঠুনের সংগ্রামী জীবনের গল্প।

দেবশ্রী জানান, মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথম দেখা হয়েছিল মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে। তখন তিনি কেবল অভিনয়জগতে পা রাখছেন, আর মিঠুন ইতোমধ্যে ‘মৃগয়া’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করে আলোচনার কেন্দ্রে।

‘নদী থেকে সাগরে’ ছবিতে প্রথমবার মিঠুনের বিপরীতে অভিনয়ের সুযোগ পান দেবশ্রী। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, মিঠুনের মতো সুদর্শন ও জনপ্রিয় নায়কের বিপরীতে অভিনয় করতে পেরে তিনি ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। ছবির শুটিং চলাকালে ঘটে যাওয়া নানা মজার ঘটনাও আজও স্পষ্ট মনে আছে তার।

একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে দেবশ্রী বলেন, শুটিংয়ের সময় প্রথমবার শাড়ি পরতে গিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন তিনি। দৃশ্য ধারণের মাঝেই শাড়ি খুলে গেলে মিঠুন মজা করে তার মাকে ডাকতে শুরু করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই তাদের মধ্যে তৈরি হয় এক আন্তরিক সম্পর্ক, যা পরবর্তীতে দুই পরিবারের বন্ধুত্বেও রূপ নেয়।

দেবশ্রীর ভাষায়, মিঠুন ছিলেন সেটের প্রাণভোমরা। তিনি উপস্থিত থাকলে পুরো ইউনিট প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠত। দুষ্টুমি, হাসি-ঠাট্টা আর প্রাণখোলা আড্ডায় সবাইকে মাতিয়ে রাখতেন তিনি। একই সঙ্গে ছিলেন অসাধারণ মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ অভিনেতা।

মিঠুনের দুষ্টুমির একটি ঘটনা এখনও ভুলতে পারেন না দেবশ্রী। ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ ছবির শুটিং চলাকালে রামোজি ফিল্ম সিটিতে হঠাৎ তার কাঁধে একটি নকল সাপ রেখে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন মিঠুন। মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্কে চিৎকার করে উঠেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য বিষয়টি নিয়ে দুজনেই অনেক হাসাহাসি করেন।

তবে সম্পর্কটা শুধু সহকর্মীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দেবশ্রী জানান, মুম্বাই থেকে কলকাতায় এলেই মিঠুন প্রায়ই তাদের বাড়িতে চলে আসতেন। একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা আর পারিবারিক সময় কাটানো ছিল নিয়মিত ব্যাপার। একই গুরুর শিষ্য হওয়ায় তাদের মধ্যে ছিল আরও গভীর আত্মিক সম্পর্ক।

অভিনেত্রীর মতে, পর্দার নায়ক হওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও একজন দায়িত্বশীল বাবা মিঠুন চক্রবর্তী। ‘শাস্ত্রী’ ছবির শুটিংয়ের সময় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন দেবশ্রী। সেসময় তার পরামর্শও মেনে নিয়েছিলেন অভিনেতা।

মিঠুনের সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে দেবশ্রী বলেন, একজন বাঙালি শিল্পীর পক্ষে মুম্বাই চলচ্চিত্র অঙ্গনে শীর্ষস্থান অর্জন করা সহজ ছিল না। কঠোর পরিশ্রম ও প্রতিভার জোরে তিনি শুধু বলিউড নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। পদ্মভূষণ ও দাদাসাহেব ফালকের মতো সম্মাননাও তার সেই অর্জনের স্বীকৃতি।

তবে একটি বিষয় এখনও তাকে কষ্ট দেয় বলে জানান দেবশ্রী। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সিনেমায় অসামান্য অবদান রাখলেও কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মিঠুন চক্রবর্তীকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে তিনি বহুবার প্রকাশ্যে প্রতিবাদও করেছেন।

সবশেষে দেবশ্রী বলেন, মিঠুন চক্রবর্তী এমন একজন মানুষ, যার প্রাণশক্তি, উদারতা এবং ইতিবাচক মনোভাব কখনও ফুরিয়ে যায় না। বয়স বাড়লেও তারুণ্য যেন আজও তাকে ছেড়ে যায়নি। তাই তিনি চান, মিঠুন সবসময় এমনই প্রাণবন্ত, হাসিখুশি ও অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ হয়ে থাকুন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category