• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন

ধর্ষণ থামাতে পারে না, সিনেমা ঠিকই থামায় : চমক

ডেস্ক নিউজ / ৩২ পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাতা তানিম নূরের চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদের ঢেউ অব্যাহত রয়েছে। নির্মাতা, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও দর্শকদের পর এবার বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক।

সোমবার (১ জুন) রাত ৯টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘প্রশাসন ধর্ষণ থামাতে পারে না, কিন্তু সিনেমার প্রদর্শনী ঠিকই থামাতে পারে। যে দেশে সুর নাই, সে দেশে তো অসুরই তৈরি হবে।’

চমকের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পক্ষ চলচ্চিত্রটি নিয়ে আপত্তি তুলে প্রচারণা শুরু করলে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে প্রদর্শনীটি স্থগিত হয়ে যায়।

একই দিনে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামেও স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা।

ঘটনার পর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলার ১০টি সাংস্কৃতিক সংগঠন। যৌথ বিবৃতিতে তারা এ ঘটনাকে সাংস্কৃতিক চর্চার পরিপন্থী এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে সংস্কৃতি চর্চা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের জন্য সুপরিচিত। ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ ও কবি আল মাহমুদের স্মৃতিবিজড়িত এই জেলায় একটি অনুমোদিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।

সংগঠনগুলোর নেতারা আরও বলেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী প্রদর্শনের অনুমোদন পেয়েছে এবং দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে প্রশংসিত হয়েছে। অথচ নির্মাতা তানিম নূর, যিনি নিজেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান, নিজ জেলার দর্শকদের সামনে তার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন।

বিবৃতিতে চলচ্চিত্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, গণতান্ত্রিক সমাজে শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির অবাধ চর্চা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো গোষ্ঠীর অসহিষ্ণুতা বা উগ্র মনোভাবের কারণে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়া কাম্য নয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, খেলাঘর, উদীচী জেলা সংসদ, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আবরণী, কবির কলম, চারণ, সোনালি সকাল ও আজকের সংস্কৃতিসহ ১০টি সংগঠন যৌথভাবে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এদিকে রুকাইয়া জাহান চমকের ফেসবুক স্ট্যাটাস নতুন করে বিষয়টিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকের মতে, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশে সহনশীল ও মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category