পুরস্কার পাওয়ার পর বদলে গেছে অনেক কিছু—এমনটাই মনে করছেন তরুণ মডেল ও অভিনেত্রী নীলা। তবে এই বদলটা বাহ্যিক নয়, বরং দায়িত্ববোধে। তার ভাষায়, এই স্বীকৃতি যেন কাঁধে আরও বড় দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। “এখন মনে হচ্ছে, আমাকে আরও ভালো কাজ করতে হবে। নিজেকে প্রমাণ করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পুরস্কারই আমার জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু,” বলেন তিনি।
নীলার এই অর্জনে দারুণ খুশি তার পরিবার। স্বামী, মা, শাশুড়ি—সবাই উদযাপন করছেন তার সাফল্য। পুরস্কার ঘিরে পরিবারের ভেতরেও ছিল আনন্দঘন কিছু মুহূর্ত। হাসতে হাসতে নীলা জানান, তার স্বামী মজা করে জিজ্ঞেস করেছেন—অ্যাওয়ার্ডকে খাওয়াচ্ছেন কি না, কিংবা সেটা নিয়েই ঘুমাচ্ছেন কি না!
ক্যারিয়ারের শুরুটা মডেলিং দিয়ে হলেও, অভিনয়ে আসেন বেশ পরে। প্রথমবার খুব ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে একটি নাটকে। সেই অংশ ভাইরাল হওয়ার পরই নতুন সুযোগ আসে। পরবর্তীতে ‘ফার্স্ট লাভ’ নাটকে কাজ করেন, আর সেখান থেকেই আসে এই পুরস্কার।
অভিনয়ে আসার পেছনে ছিল নিজের সক্ষমতা যাচাই করার ইচ্ছা। নীলা বলেন, “অনেকেই বলতেন অভিনয় করতে। কিন্তু ভয় কাজ করত। লাইভে কথা বলা আর ক্যামেরার সামনে অভিনয় এক নয়। তাই নিজেকে পরীক্ষা করতেই প্রথম নাটকে কাজ করি।”
শৈশব থেকেই বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রায়ের কাজ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। সেই অনুপ্রেরণাই তাকে মডেলিং ও অভিনয়ের পথে এগোতে সাহস জুগিয়েছে। যদিও শুরুতে অভিনয় দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু করতে চেয়েছিলেন, বাস্তবে তা হয়নি। তবে এখন অভিনয়ের প্রতিই তার টান বেশি।
মডেলিং নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে নীলা বলেন, এই অঙ্গন তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে—কথা বলা, উপস্থাপন, আচার-আচরণ—সব মিলিয়ে জীবনের বড় একটি শিক্ষার জায়গা। তবে র্যাম্প মডেলিংয়ে আগ্রহ নেই তার। তার মতে, সবাইকে সবকিছু করতে হবে, এমন নয়। র্যাম্পের জন্য যারা যোগ্য, তারাই এগিয়ে থাকুক।
সব মিলিয়ে, মডেলিং থেকে অভিনয়—নীলার এই যাত্রা এখন নতুন মোড়ে। পুরস্কার পাওয়ার পর সেই পথচলায় যোগ হয়েছে আরও দায়িত্ব, আরও প্রত্যাশা।