দেশের নাট্যাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায় হলো। বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা, নাট্যকার ও মঞ্চনির্দেশক আতাউর রহমান আর নেই। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এক পোস্টে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করে লেখেন, “অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সম্মানিত সদস্য এবং আমাদের প্রিয় সহকর্মী মঞ্চসারথি আতাউর রহমান কিছুক্ষণ আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।”
জানা গেছে, গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর থেকেই আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। প্রথমে তাঁকে রাজধানীর গুলশানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসা ও আইসিইউ সুবিধার জন্য ধানমণ্ডির আরেকটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছিল।
১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত। নাট্যকার, অভিনেতা, নির্দেশক ও লেখক হিসেবে কয়েক দশক ধরে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন তিনি।
শিল্প-সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেন দেশের দুটি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক।
আতাউর রহমানের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নাট্যকর্মী, শিল্পী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।