পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার মেয়ে রুমী সরকার। ছোটবেলা থেকেই গান ছিল তাঁর নেশা। স্কুলজীবনে প্রায় প্রতিটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এই শিল্পী ২০০৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর পেশাদার সংগীতজগতে পথচলা শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে পালা গানের মঞ্চে গড়ে তুলেছেন নিজের আলাদা পরিচিতি।
রুমী সরকার মূলত পালা গানের শিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। চ্যানেল রুপালীর বিভিন্ন আয়োজনে শাহ আলম সরকারের সঙ্গে শরিয়ত মারফত এবং শেফালী সরকারের সঙ্গে গুরু-শিষ্য পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাঁর ভাষায়, পালা গান করতে হলে শুধু ফোক, লোক, লালন বা আধ্যাত্মিক গান জানলেই হয় না, আরও নানা ধারার সংগীতে সমান দক্ষতা ও ভারসাম্য রাখতে হয়।
গত বছরের ২৭ জুলাই প্রকাশিত হয় তাঁর মৌলিক গান ও ভাই সোনার বাংলায় সোনার ছেলে শহীদ জিয়াউর রহমান। গানটি প্রকাশের পর শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তাঁর জনপ্রিয়তাকে আরও বিস্তৃত করে।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে মালদ্বীপসহ পাঁচ থেকে সাতটি দেশে গান গেয়েছেন রুমী সরকার। তবে সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠান। সে সময় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হুইলচেয়ারে করেই বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। শারীরিক অসুস্থতাকে জয় করে মঞ্চে গান পরিবেশন করার সেই মুহূর্ত আজও তাঁর জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতি।
লোকসংগীতের প্রতি নিজের ভালোবাসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুমী বলেন, এই গানের সবচেয়ে বড় শক্তি এর বাণী ও আধ্যাত্মিকতা, যা মানুষকে প্রকৃত মানুষ হতে শেখায়। তাঁর মতে, মৌলিক গান তৈরিতে কথা, সুর ও দর্শন একে অপরের পরিপূরক, তাই কোনো একটি বিষয়কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশে রুমীর পরামর্শ, গানের ভাব ও অর্থ না বুঝে শুধু মঞ্চে নেচে-গেয়ে পরিবেশন করলে সংগীতের মান ক্ষুণ্ন হয়। প্রতিটি গান হৃদয়ে ধারণ করে উপস্থাপন করলেই শিল্পের প্রতি সত্যিকারের সম্মান দেখানো সম্ভব।
সামনে একাধিক মৌলিক গান নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে রুমী সরকারের। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আরও গান গাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তবে সেটিকে ভাগ্যের ওপর ছেড়েই এগিয়ে যেতে চান এই পালা গানের শিল্পী।