• শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন

আইয়ুব বাচ্চু নেই, তার গানেই আজ মুখর সংগীতাঙ্গন

বিনোদন প্রতিবেদক / ৪০ পঠিত
আপডেট : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

কিছু শিল্পীর জন্মদিন কেবল একটি তারিখ হয়ে থাকে না, তা হয়ে ওঠে তাদের সৃষ্টিকে নতুন করে ফিরে দেখার উপলক্ষ। আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনও তেমনই। আজ ১৬ আগস্ট, বাংলা রকসংগীতের এই কিংবদন্তি শিল্পীর ৬৪তম জন্মবার্ষিকী। আট বছর আগে তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তার গান ও গিটারের সুর এখনো প্রজন্ম পেরিয়ে শ্রোতাদের সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছে।

এবার আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করার আয়োজন পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। তার জনপ্রিয় ২০টি গান নিয়ে প্রকাশ হচ্ছে বিশেষ অ্যালবাম ‘উত্তরাধিকার’। দেশের আটটি ব্যান্ড ও ১২ জন শিল্পী নতুন সংগীতায়োজনে গানগুলো পরিবেশন করেছেন। দলছুট, আরবোভাইরাস, সোনার বাংলা সার্কাস, শুভযাত্রা, ক্যালিপসো, রকসল্ট, ডোপামিন ও এ কে রাহুলের পাশাপাশি এতে অংশ নিয়েছেন একাধিক একক শিল্পী।

শুধু শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন নয়, ‘উত্তরাধিকার’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগও। অ্যালবাম থেকে পাওয়া অর্থ ব্যয় করা হবে আইয়ুব বাচ্চু মিউজিয়াম তৈরির কাজে। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পীর পরিবার ও আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন এই মিউজিয়াম তৈরির পরিকল্পনা করে আসছে।

মিউজিয়ামটি হলে সেখানে স্থান পাবে আইয়ুব বাচ্চুর দীর্ঘ সংগীতজীবনের নানা স্মারক। তার সংগ্রহে থাকা প্রায় ৫০টি গিটার, ব্যবহৃত পোশাক, ক্যাপ, টি-শার্টসহ বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে মগবাজারের বাসায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে যত্নে রাখা হচ্ছে তার গিটারগুলো। এর মধ্যে ফেন্ডার স্ট্রাটোকাস্টার ও আইভানেজ জেম ৭৭ গিটার বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে সংগীতপ্রেমীদের জন্য।

আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনকে ঘিরে ঢাকার বাইরেও চলছে স্মরণ আয়োজন। রাজশাহীতে গত শুক্রবার শ্রীরামপুর টিবাঁধ-সংলগ্ন পিঁপড়া আপ্যায়ন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এবি ফরএভার-২০২৬, ট্রিবিউট কনসার্ট’। ব্যান্ড ভ্যারিয়েন্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত এই আয়োজনে আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে তাকে স্মরণ করা হয়।

দেশের বাইরে থেকেও আসছে তার প্রতি শ্রদ্ধার বার্তা। ইতালির রোমে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ কনসার্ট, যেখানে দীর্ঘ ১২ বছর পর সেখানকার মঞ্চে ফিরছেন নগরবাউল জেমস। দেশি ইভেন্ট এবিযেন আয়োজিত এই আয়োজন ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কনসার্টকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতিচারণ করেছেন জেমস। একই সঙ্গে বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতকে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

একজন শিল্পীর জন্মদিনকে ঘিরে এত আয়োজনের পেছনে মূল কারণ তার সৃষ্টির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। আইয়ুব বাচ্চুর গান শুধু একটি নির্দিষ্ট সময়ের শ্রোতাদের মধ্যে আটকে নেই। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তার গান গাইছেন, ব্যান্ডগুলো তার সৃষ্টিকে নতুন সংগীতায়োজনে তুলে ধরছে, আবার তার ব্যবহৃত গিটার ও অন্যান্য স্মারক সংরক্ষণের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এবারের ১৬ আগস্ট তাই শুধু আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন নয়, তার সংগীতের উত্তরাধিকারকে সামনে এগিয়ে নেওয়ারও একটি দিন। মঞ্চে তার গান নেই, হাতে নেই সেই গিটার। কিন্তু নতুন কণ্ঠে যখন তার গান ফিরে আসে, তখন স্পষ্ট হয়, আইয়ুব বাচ্চুর সংগীত থেমে যায়নি। বরং নতুন প্রজন্মের হাত ধরে তা এগিয়ে চলেছে আরও দূরে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ