অভিনয়ের গণ্ডি পেরিয়ে এবার চলচ্চিত্র পরিচালনায় নাম লিখিয়েছেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। তার পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোমেশ্বরী’। সিনেমাটি পরিচালনার পাশাপাশি এতে অভিনয়ও করেছেন তিনি।
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও সোমেশ্বরী নদীকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃতি, পরিবেশ এবং জনপদের মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প।
মঞ্চ ও পর্দা, দুই মাধ্যমেই সমানভাবে সক্রিয় নওশাবা। বর্তমানে তিনি রেজা আরিফের নির্দেশনায় ‘সিদ্ধার্থ’ নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের নাট্যদল ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর বিভিন্ন প্রযোজনা পরিচালনা করছেন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা এই দলের ব্যানারে ইতোমধ্যে চারটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার চলচ্চিত্র নির্মাণেও যাত্রা শুরু করলেন তিনি।
নওশাবার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘সোমেশ্বরী’র প্রযোজক বিবেশ রায়। প্রযোজকের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি সম্মিলিত প্রয়াস। কাজী নওশাবা, আপন, লতা, জাহিদসহ কয়েকজন মিলে সিনেমাটির গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে যুক্ত ছিলেন।
সিনেমাটি নিয়ে নওশাবা বলেন, শুরুতে গল্প বা চরিত্র নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। পুরো টিম মধ্যনগরে গিয়ে স্থানীয় বাস্তবতা, মানুষ ও অভিজ্ঞতার আলোকে গল্পটি তৈরি করেছে। মূল চরিত্রে অভিনয়েরও পরিকল্পনা ছিল না। তবে উপযুক্ত কাউকে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আমিই চরিত্রটি করেছি।
তিনি আরও জানান, গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত পরিচিতি থাকায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের আন্তরিক সহযোগিতাও পেয়েছেন।
গল্প প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘সোমেশ্বরী’ মূলত আধুনিকতার নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নেতিবাচক প্রভাব, পরিবেশ দূষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কেমন পৃথিবী রেখে যাচ্ছি, সেই প্রশ্নগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। এর পাশাপাশি সিনেমাটিতে রয়েছে একটি মানবিক গল্পও।
‘সোমেশ্বরী’ নির্মিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার আওতাধীন গ্রিন ফিল্মস ব্যানারে।