ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমু দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছরের অভিনয়জীবনে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় নাটকে অভিনয় করেছেন। বড় পর্দাতেও কাজ করেছেন, তবে তা ছিল সীমিত পরিসরে। অভিনয়ে নিয়মিত না থাকলেও এখনও দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। বর্তমানে নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নারী উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি রুম্মান রশীদ খানের একটি পডকাস্টে অতিথি হয়ে মাতৃত্বের নানা অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন শিমু। বিশেষ করে প্রথমবার মা হওয়া এবং যমজ সন্তানের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
মাতৃত্বের শুরুটা তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না বলে জানান অভিনেত্রী। শিমুর ভাষ্য, মা হওয়ার আগে থেকেই তার মধ্যে এক ধরনের ভয় ও অনিশ্চয়তা কাজ করত। কী হবে, কীভাবে সবকিছু সামলাবেন, সেই দুশ্চিন্তা তাকে সবসময় তাড়া করত।
যমজ সন্তান ধারণ করায় চিকিৎসকরাও তাকে বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে শিমু বলেন, সাধারণত অনেকেই সন্তান জন্মের আগেই নাম ঠিক করে রাখেন। কিন্তু তিনি এতটাই উদ্বিগ্ন ছিলেন যে সন্তানদের নাম পর্যন্ত আগে থেকে ঠিক করেননি। তার ভাবনা ছিল, আগে সন্তান সুস্থভাবে পৃথিবীতে আসুক, তারপর সবকিছু ভাবা যাবে।
অভিনেত্রী জানান, সন্তান জন্মের পরও প্রায় তিন মাস তাদের কোনো নাম রাখা হয়নি। কারণ নতুন জীবনের বাস্তবতা তাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। মা হওয়ার পর একজন নারীর জীবন কতটা পরিবর্তিত হতে পারে, সেটি তার কল্পনারও বাইরে ছিল।
যমজ সন্তানের দায়িত্ব সামলানো যে কতটা কঠিন, সেই অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন শিমু। তিনি বলেন, প্রথম কয়েক মাস ছিল সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়। একটি শিশুকে কষ্ট করে ঘুম পাড়িয়ে রাখার পর অন্যজনের কাছে যেতে হতো। তখন আবার প্রথমজন কান্না শুরু করত। এভাবেই দিন-রাত কেটে গেছে।
সব মিলিয়ে মাতৃত্বের পথচলাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন, আবার সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি বলেই মনে করেন সুমাইয়া শিমু।