টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও নির্মাতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। একসময় ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী সংগঠন ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া এবং এর সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরব অবস্থানে ছিলেন তিনি। সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবেও দেখা গিয়েছিল তাকে। তবে পরে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন এই অভিনেতা।
এরপর তৎকালীন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও নানা আলোচনা হয়। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনের সময় শাসক দলের হয়ে প্রচারণায় অংশ নিতেও দেখা যায় তাকে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরমব্রত দাবি করেন, নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং কাজ হারানোর আশঙ্কা থেকেই সে সময় আপসের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
তার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। অনেক নেটিজেনের অভিযোগ, পরমব্রত নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সন্তানের প্রসঙ্গ টেনে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলছেন।
তবে এ অভিযোগ মানতে নারাজ অভিনেতা। এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই ভুক্তভোগী ছিলাম বলেই সেই কথাগুলো বলেছি। যখন আমি কঠিন সময়ের মধ্যে ছিলাম, তখন কেউ ফোন করে জানতে চায়নি আমি কেমন আছি বা আমার সংসার কীভাবে চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ প্রায়ই অর্ধসত্য তথ্যের ভিত্তিতে মতামত দেয়। তাই তাদের কাছ থেকে আমার বিশেষ কোনো প্রত্যাশা নেই।
ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন পরমব্রত। তার ভাষ্য, অনেকেই তার আগেই ফেডারেশন ও স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়ে আপসের পথ বেছে নিয়েছিলেন এবং নিজেদের কাজের সুযোগও নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় তার ব্যক্তিগত সংকট বা কর্মহীনতার বিষয়ে কেউ খোঁজ নেননি।
পরমব্রতের মতে, সেই প্রেক্ষাপট না জেনে বর্তমান পরিস্থিতিকে কেউ ‘ভিক্টিম কার্ড’ বলে ব্যাখ্যা করলে তার আর নতুন করে কিছু বলার নেই।