ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত জুটি শাকিব খান ও শবনম বুবলীকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কারণ, সম্প্রতি কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এনেছেন বুবলী। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি শাকিব খান। আর তার এই নীরবতাই জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও জল্পনার।
গত ৫ জুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে বুবলী জানান, তিনি কন্যাসন্তানের মা হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানকে সন্তানের বাবা হিসেবে উল্লেখ করেন। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ভক্ত-অনুরাগী এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা। অনেকে শুভেচ্ছা জানালেও সবার নজর ছিল শাকিব খানের প্রতিক্রিয়ার দিকে।
তবে চার দিন পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি তিনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কেন নীরব রয়েছেন এই তারকা? এটি কি শুধুই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সময় নেওয়ার সিদ্ধান্ত, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?
শাকিব খানের ব্যক্তিজীবনে এমন পরিস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালে হঠাৎ করেই প্রকাশ্যে আসে তার ও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের বিয়ে এবং সন্তান আব্রাম খান জয়ের বিষয়টি। প্রথমদিকে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও পরবর্তীতে ছেলে জয়কে স্বীকৃতি দেন শাকিব। একইভাবে বুবলীর ছেলে শেহজাদ খান বীরের বিষয়টিও দীর্ঘদিন আড়ালে ছিল। পরে বুবলী নিজেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এবং পরবর্তীতে শাকিবও তা অস্বীকার করেননি।
সেই অভিজ্ঞতার কারণেই অনেকে মনে করছেন, বর্তমান ঘটনাটিও হয়তো সময়ের ব্যবধানে একই পরিণতির দিকে এগোবে। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন বলেও মত রয়েছে অনেকের।
কারণ, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শাকিব খান একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বুবলী তার অতীত। এমনকি তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। এসব বক্তব্যের পর বুবলীর সাম্প্রতিক ঘোষণাকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। যদি কন্যাসন্তানের বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেন, তাহলে তার অবস্থান কী হবে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। এক পক্ষ মনে করছেন, সন্তানের বিষয়ে একজন পিতার অবস্থান স্পষ্ট হওয়া উচিত। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং মন্তব্য করবেন কি করবেন না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শাকিব খানের রয়েছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, বুবলীর ঘোষণার পর চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে শুরু করে ভক্তদের বড় একটি অংশ এখন অপেক্ষা করছে শাকিব খানের বক্তব্যের জন্য। কারণ, তার একটি মন্তব্যই চলমান জল্পনা-কল্পনার অনেকটাই দূর করতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, আগের ঘটনাগুলোর মতো এবারও কি তিনি প্রকাশ্যে এসে নিজের অবস্থান জানাবেন, নাকি নীরবতাই বজায় রাখবেন। সেই উত্তর জানার অপেক্ষায় রয়েছে ভক্ত-অনুরাগী থেকে শুরু করে পুরো শোবিজ অঙ্গন।