আজ বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের আকাশে এক অনন্য দিন। বিদ্রোহ, প্রেম, মানবতা আর সাম্যের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্ম নেওয়া এই মহাকবি আজও বাঙালির প্রেরণা, সাহস আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতীক।
জীবদ্দশায় নজরুল ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী কণ্ঠ। তার লেখনী যেমন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষকে জাগিয়ে তুলেছে, তেমনি প্রেম, দ্রোহ, মানবতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তায় সমৃদ্ধ করেছে বাংলা সাহিত্যকে। “বিদ্রোহী”, “সাম্যবাদী”, “দারিদ্র্য” কিংবা “কারার ঐ লৌহকপাট” শুধু কবিতা নয়, বরং যুগে যুগে সংগ্রামী মানুষের প্রেরণার ভাষা হয়ে উঠেছে।
কবিতার পাশাপাশি বাংলা সংগীতেও নজরুলের অবদান অসামান্য। প্রেম, ভক্তি, দেশাত্মবোধ ও ইসলামী ভাবধারার হাজারো গান আজও মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়। বাংলা গানে নতুন সুর ও বৈচিত্র্য এনে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন এক স্বতন্ত্র ধারা, যা আজ ‘নজরুলসংগীত’ নামে পরিচিত।
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন। কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও নজরুলসংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে তাকে।
প্রতি বছরই নজরুলের জন্মদিন নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, তিনি কেবল একজন কবি নন, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এক সাহসী নাম। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে তার অবদান চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।