• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

সামির-মেহরিন-ফাহাদ-সায়রার আড্ডায় প্রাণ ফিরে পেল ‘এটা আমাদেরই গল্প’

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩৫ পঠিত
আপডেট : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

পারিবারিক গল্পভিত্তিক ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা নতুন করে ফিরিয়ে এনেছে নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের ‘এটা আমাদেরই গল্প’। দর্শকরা যেমন সামির, মেহরিন, ফাহাদ ও সায়রার সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়েছেন, তেমনি শেষ পর্বগুলোতে চোখও ভিজিয়েছেন আবেগে। সেই ভালোবাসার উদযাপনেই শুক্রবার (৬ জুন) রাজধানীর গুলশানে আয়োজন করা হয় ধারাবাহিকটির সাকসেস পার্টি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীরা। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতার ফাঁকেই যেন আবারও প্রাণ ফিরে পায় পর্দার পরিচিত চরিত্রগুলো। খায়রুল বাসার, কেয়া পায়েল, ইরফান সাজ্জাদ ও সুনেরাহ বিনতে কামালের খুনসুটি মুহূর্তেই জমিয়ে তোলে পুরো আয়োজন।

ইরফান সাজ্জাদ বলেন, কাজ করতে করতেই পুরো টিমের মধ্যে এক ধরনের পারিবারিক বন্ধন তৈরি হয়েছিল। এই নাটকের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছ থেকে সবচেয়ে বড় যে প্রাপ্তি পেয়েছেন, তা হলো চরিত্রের নামেই মানুষের কাছে পরিচিত হওয়া। তিনি জানান, এখন অনেকেই তাকে ‘ফাহাদ’ নামেই চিনেন, যা একজন অভিনেতার জন্য বিশেষ আনন্দের।

আলাপের এক পর্যায়ে ফাহাদ-সায়রার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মজার পরিবেশ তৈরি করেন খায়রুল বাসার। সুনেরাহকে উদ্দেশ করে ‘রাজকুমারী ভাবি’ বলে ডাকেন তিনি। পরে কেয়া পায়েলও আলোচনায় যোগ দিলে চার শিল্পীর কথোপকথন দেখে মনে হচ্ছিল যেন ধারাবাহিকটিরই কোনো নতুন পর্ব চলছে।

দর্শকদের আবেগাপ্লুত হওয়ার প্রসঙ্গে ইরফান বলেন, কাঁদানোর উদ্দেশ্যে অভিনয় করেননি তারা। তবে গল্পের ভেতরের আবেগকে সত্যিকারভাবে অনুভব করেই কাজ করেছেন। বিশেষ করে পরিবারের সংকটময় মুহূর্তগুলো দর্শকদের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি জানান, তার নিজের বাবা-মাও অনেক দিন পর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো নাটক দেখেছেন এবং আবেগাপ্লুত হয়েছেন।

খায়রুল বাসার বলেন, একটি পরিবারের দুঃখ-কষ্টের মধ্য দিয়েই দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার প্রকৃত রূপ ফুটে ওঠে। অন্যদিকে সুনেরাহ বিনতে কামাল জানান, নাটক প্রচারের পর থেকে বাস্তব জীবনেও অনেকে তাকে ‘সায়রা’ নামেই ডাকেন। এমনকি নিজের নাম বলার পরও অনেক দর্শক তাকে সায়রা বলেই সম্বোধন করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

পরিচালক রাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কেয়া পায়েল বলেন, মেহরিন চরিত্রটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রিয় চরিত্র হয়ে থাকবে। দর্শকরা যেমন রোমান্টিক দৃশ্যগুলো উপভোগ করেছেন, তেমনি শেষের আবেগঘন পর্বগুলোও গভীরভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, শুটিং শেষ হয়ে গেলেও পুরো টিমকে এখনও ভীষণ মিস করেন।

এ সময় খায়রুল বাসার মজা করে বলেন, বউ হিসেবে মেহরিন ভালো, আর জামাই হওয়া উচিত সামিরের মতো। তার এই মন্তব্যে হাসির রোল পড়ে যায় পুরো অনুষ্ঠানে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এর সাকসেস পার্টি ছিল শুধু একটি উদযাপন নয়; বরং দর্শকদের প্রিয় সামির, মেহরিন, ফাহাদ ও সায়রার আরেকটি প্রাণবন্ত মিলনমেলা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category