কিংবদন্তি অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ-এর ৭৯তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৪৭ সালের ৮ মে জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পীর আসল নাম ছিল মাজেদা মল্লিক। ছোটবেলা থেকেই সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। মাত্র চার বছর বয়সে মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর শিল্পীজীবনের শুরু। পরে রাজশাহী বেতারে ঘোষক ও নাট্যশিল্পী হিসেবেও কাজ করেন তিনি।
চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হয় বজলুর রহমান পরিচালিত ‘ঠিকানা’ সিনেমার মাধ্যমে। যদিও ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৬৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র ‘জুগনু’ ছিল তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। একই বছরে সুভাষ দত্ত পরিচালিত বাংলা চলচ্চিত্র ‘আবির্ভাব’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা সিনেমায় নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করলেও পরবর্তীতে মা, খালা, ভাবি কিংবা পরিবারের অভিভাবকসুলভ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নেন শর্মিলী আহমেদ। অভিনয়ের সহজাত দক্ষতা, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং পর্দায় স্বাভাবিক উপস্থিতির কারণে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এক মুখ।
তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম দিককার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘দম্পতি’-তেও অভিনয় করেছিলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে প্রায় ৪০০টির বেশি নাটক ও দেড় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এই বরেণ্য অভিনেত্রী।
তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘আবির্ভাব’, ‘আগুন’, ‘বসুন্ধরা’, ‘রূপালী সৈকতে’, ‘দহন’, ‘লাল গোলাপ’, ‘বেয়াদব’, ‘বিক্ষোভ’, ‘আলিঙ্গন’সহ আরও অনেক জনপ্রিয় সিনেমা। ছোটপর্দাতেও তাঁর অসংখ্য স্মরণীয় কাজ রয়েছে।
শর্মিলী আহমেদ ছিলেন আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি-এর বোন। ব্যক্তিজীবনে নির্মাতা রকিবউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
২০২২ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই গুণী অভিনেত্রী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের শোবিজ অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। তবে আজও তাঁর অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং অবদান বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের দর্শকদের মনে গভীরভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।