• শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন

বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট-হেলমেটে আদালতে ডন, কারাগারে পাঠালেন আদালত

ডেস্ক নিউজ / ৯০ পঠিত
আপডেট : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে রোববার ভোরে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডির) কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ভোর ৫টার দিকে বিমানবন্দর থেকে ডনকে আটক করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মামলাটিতে পলাতক ছিলেন। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান। জামিনে মুক্তি পেলে তিনি মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন এবং ফের আত্মগোপনে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

আদালতে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, এটি বহুল আলোচিত মামলা এবং ডন এ মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি। তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন বলে দাবি করে রাষ্ট্রপক্ষ। বিমানবন্দর থেকে আটকের পর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ডনকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতের এজলাসে তোলা হয়। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা তার জ্যাকেট ও হেলমেট খুলে দেন। পাঁচ মিনিট পর বিচারক এজলাসে আসেন। এ সময় ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলে আদালতকে জানানো হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনার বর্ণনাও তুলে ধরে। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মা নিলুফার জামান চৌধুরী, মামা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাকে দেখতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন সালমান ঘুমিয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হওয়ার কথা জানান।

এরপর পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় ফিরে সালমান শাহকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। সেখানে কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, ঘটনার পর সালমান শাহর ছোট ভাইকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় তার মা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। ওই মামলার আসামি রিজভী আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে ডনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করে।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যে আরও বলা হয়, সালমান শাহর স্ত্রী ও ডনের মধ্যে গোপন সম্পর্ক ছিল এবং সালমান শাহকে হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয় বলেও আদালতে দাবি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ এখনো মামলার তদন্তাধীন বিষয়। আদালত শুনানি শেষে ডনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে আদালতে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর হত্যা মামলা নতুন করে আলোচনায় আসার মধ্যে অন্যতম আসামি আশরাফুল হক ডনের গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় মামলাটির তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ