গ্ল্যামার জগতের অন্ধকার দিক ‘কাস্টিং কাউচ’ নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বলেছেন বলিউড ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ মাদালসা শর্মা। বর্তমানে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘অনুপমা’-তে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে তিনি বেশ পরিচিত। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প, যেখানে শুরুতেই তাকে এক কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
মাদালসা জানান, তখন তার বয়স মাত্র ১৯। অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। সেই সময় এক খ্যাতনামা পরিচালক তাকে ব্যক্তিগতভাবে বিকিনি পরে দেখা দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যাতে তিনি ‘ক্যামেরার বাইরে’ তার শরীরী ভাষা ও স্বাচ্ছন্দ্য যাচাই করতে পারেন।
অভিনেত্রীর মতে, পর্দার প্রয়োজনে যেকোনো পোশাকে কাজ করতে তার আপত্তি নেই, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এমন অনুরোধ তিনি কোনোভাবেই মেনে নেননি। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, “আমি একজন পেশাদার অভিনেত্রী। স্ক্রিপ্টের প্রয়োজনে যেকোনো পোশাক পরা আমার কাজের অংশ। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কারও সামনে এমন কিছু করা আমি গ্রহণযোগ্য মনে করি না।
তিনি আরও জানান, প্রতিভার ওপর আস্থা থাকলে তবেই তাকে কাজ দেওয়া উচিত, নতুবা তিনি সেখান থেকে সরে আসতে প্রস্তুত ছিলেন। তার মতে, পর্দায় সাহসী পোশাক ব্যবহারের পেছনে অবশ্যই গল্প বা চরিত্রের যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকা দরকার, শুধুমাত্র প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়।
এর আগেও দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সময় এমন কিছু অভিজ্ঞতার কারণে তিনি মুম্বাইয়ে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানান মাদালসা। অল্প বয়স থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলেও তিনি সবসময় নিজের নীতি ও অবস্থানে অটল থেকেছেন।
ব্যক্তিজীবনে, মিঠুন চক্রবর্তীর বড় ছেলে মহাক্ষয় চক্রবর্তী ওরফে মিমোর সঙ্গে ২০১৮ সালের ১০ জুলাই তামিলনাড়ুর উটির একটি রিসোর্টে ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মাদালসা শর্মা। পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে।
সব মিলিয়ে, অভিনয়ের জগতে নিজের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ আর অবস্থান নিয়ে এবার অনেকটাই স্পষ্টভাবে নিজের কথা তুলে ধরেছেন এই অভিনেত্রী।