বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জুলাইয়ে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় এবার নাম জড়িয়েছে খল-অভিনেতা কমল পাটেকারের। এ ঘটনায় গত রোববার (২৮ জুন) গভীর রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তার বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জুলাইয়ের একটি হত্যা মামলায় সম্প্রতি অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে কমল পাটেকারের নাম যুক্ত করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন থেকে তাকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যেই মামলায় তার নাম জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন এই অভিনেতা।
মধ্যরাতে নিজের বাসায় পুলিশি অভিযানের বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কমল পাটেকার বলেন, আমি কখনোই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। সব সময় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলেছি। শুটিং আর এফডিসি ছাড়া আমাকে কোথাও দেখা যায়নি। ৫ আগস্টের পরও দীর্ঘ সময় কেটে গেছে, নতুন সরকারও দায়িত্ব নিয়েছে। এতদিন কেউ আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি। যদি সত্যিই আমি জুলাইয়ের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতাম, তাহলে এতদিনে মামলা হতো না কেন?
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে হঠাৎ করে একটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আমার নাম যুক্ত করা হয়েছে। কে বা কারা এটি করেছে, সেটিও আমি জানি না। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না যে আমি জুলাই আন্দোলনের বিপক্ষে ছিলাম। বিষয়টিকে আমি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলেই মনে করছি।
অভিনেতার দাবি, তাকে হয়রানি এবং শিল্পী সমিতির নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, আমি বর্তমান সরকারের সহযোগিতা চাই। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক। যারা আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান কমল পাটেকার। তার ভাষ্য, দীর্ঘ অভিনয়জীবনে কখনো শুটিং ছাড়া ঘরের বাইরে থাকতে হয়নি। কিন্তু গত দুই দিন ধরে নিজের বাসাতেই থাকতে পারছি না। আমি আল্লাহর কাছে বিচার চাই। সরকার যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে।
আশির দশকে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করা কমল পাটেকার চার দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে দুই হাজারের বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তিনি ‘আরমান-মুক্তি’ প্যানেল থেকে কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে তিনি পাঁচবার কোষাধ্যক্ষ এবং একবার দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।