বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে আগামীকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ রাখা হবে। এরপর জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।
সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর ছেলে সাদাত মনোয়ার। তিনি জানান, আজ সোমবার মরদেহ বাসায় রাখা হবে। আগামীকাল জানাজার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে, যাতে গুণগ্রাহী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। পরে বনানী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি এবং প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৪ জুন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সে সময় তাঁর রক্তচাপ ও শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি ছিলেন প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার পুত্র। মা জমিলা খাতুন। শিল্পকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য মুস্তাফা মনোয়ার দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত ছিলেন।