• রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
Headline
৬১ বছর বয়সে তৃতীয়বার বিয়ে, গৌরীর হাত ধরে নতুন ইনিংস শুরু আমির খানের ত্রিদেশীয় চলচ্চিত্র উৎসবে প্রধান বিচারক মোশাররফ করিম দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানিয়ে মা হওয়ার ঘোষণা মৌসুমী হামিদের ভোট বিক্রির অভিযোগ তুলে আল্লাহর কাছে বিচার চাইলেন পলি শিল্পী সমিতির নতুন কমিটির জয়: প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পরিকল্পনা বদলে বড় পর্দায় অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ নতুন নেতৃত্বে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি: সভাপতি শিবা শানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী শাওনকে মবের শিকার করার প্রতিবাদে মুখ খুললেন পিয়া জান্নাতুল হঠাৎ হুইলচেয়ারে পরীমণি, রহস্য ঘিরে নানা জল্পনা জয়-পরাজয় ভুলে চলচ্চিত্রের স্বার্থে এক হওয়ার আহ্বান আবুল হায়াতের

পরীমণি-কাণ্ডে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, অবসরে পাঠানো হচ্ছে এডিসি সাকলায়েনকে

ডেস্ক নিউজ / ৫২ পঠিত
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬

চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে ব্যক্তিগত ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রস্তুত করা প্রজ্ঞাপনের সারসংক্ষেপে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষর করেছেন। এখন এটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। শিগগিরই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের ৯ জুন। ওই রাতে সাভার থানার ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে একই বছরের ১৪ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন গোলাম সাকলায়েন। তদন্ত চলাকালে একাধিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে খবর প্রকাশিত হয় যে, সাকলায়েনের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল পরীমণির। ২০২১ সালের ১ আগস্ট সকালে নিজের গাড়িতে করে তিনি সাকলায়েনের বাসায় যান এবং গভীর রাতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে দুজনের বাসায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সিসিটিভি ফুটেজও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।

পরীমণির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর গোলাম সাকলায়েনকে ডিবি থেকে বদলি করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার উপসচিব রোকেয়া পারভীন জুঁই স্বাক্ষরিত স্মারকে বিভাগীয় মামলায় তাকে গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) সচিবালয়ের মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পিএসসির মতামত পাওয়ার পর এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

পিএসসিতে পাঠানো শৃঙ্খলা শাখার স্মারকে উল্লেখ করা হয়, ডিবির গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঘটনাক্রমে পরীমণির সঙ্গে গোলাম সাকলায়েনের পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি নিয়মিত পরীমণির বাসায় রাত্রিযাপন করতে শুরু করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখা থেকে সরবরাহ করা তার মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে, দিন ও রাত উভয় সময়েই তিনি পরীমণির বাসায় অবস্থান করেছেন।

এছাড়া সিআইডির জব্দ করা আলামত থেকে প্রাপ্ত পরীমণির মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের ২৯ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণির ফেসবুক আইডি এবং ‘গোলাম সাকলায়েন সিথিল’ নামের ফেসবুক মেসেঞ্জার অ্যাকাউন্টে আদান-প্রদান হওয়া বার্তা, পাশাপাশি ১১ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তাদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে হওয়া কথোপকথন সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে।

২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর সিআইডির ফরেনসিক প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ১ আগস্ট গোলাম সাকলায়েন তার পূর্বপরিকল্পনা ও পূর্ণ জ্ঞাতসারে, স্ত্রী বাসায় না থাকা অবস্থায় পরীমণিকে রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে নিয়ে যান। সেখানে পরীমণি প্রায় ১৭ ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং পরদিন ২ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিটে বাসা ত্যাগ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে পরীমণির সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন সাকলায়েন। তিনি বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমণির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কে জড়ান। শুধু তাই নয়, পরীমণির সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন এবং নিজের স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সরকারি বাসভবনে একসঙ্গে সময় কাটানোর ঘটনাও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী জারি করা হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তা অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। পরে বিভাগীয় মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) হায়াত-উদ-দৌলা খাঁনকে।

তদন্ত শেষে তার প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবও সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় সার্বিক পর্যালোচনা শেষে একই বিধিমালার বিধি ৪-এর উপবিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

তবে এ বিষয়ে গোলাম সাকলায়েন কিংবা পরীমণির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category