বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও গায়িকা নোরা ফাতেহি এবার ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তবে তাঁর কাছে এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের মিলনমেলা, যেখানে ফুটবল, সংগীত ও সংস্কৃতি এক সুতোয় গাঁথা।
কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনে নোরা পরিবেশন করেন ফিফার অফিশিয়াল গান ‘সির সির’। মরক্কোর জনপ্রিয় ফুটবল স্লোগান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি এই গানের অর্থ ‘চলো, এগিয়ে যাও’। নোরার বিশ্বাস, বিশ্বকাপের আবহে এটি বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের জন্য এক বৈশ্বিক স্লোগানে পরিণত হতে পারে।
বিবিসি নিউজবিটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নোরা বলেন, বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে বিশ্বের নানা দেশ নিজেদের প্রতিভা ও সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ পায়। ফুটবল ও সংগীত সব সময়ই মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে। আমি এই মঞ্চকে ব্যবহার করতে চেয়েছি প্রতিনিধিত্ব, বহুসাংস্কৃতিক শিল্পচর্চা এবং নিজের গল্প তুলে ধরার জন্য।
কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া মরক্কান বংশোদ্ভূত নোরা ফাতেহির পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। মাত্র ২২ বছর বয়সে অভিনয় ও নাচের স্বপ্ন নিয়ে তিনি ভারতে পাড়ি জমান। ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
‘দিলবার’, ‘ও সাকি সাকি’, ‘নাচ মেরি রানি’ এবং ‘মানিকে’র মতো একের পর এক জনপ্রিয় গানে পারফর্ম করে তিনি ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত হন।
নিজের জন্মশহর টরন্টোতে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনের মঞ্চে পারফর্ম করার অভিজ্ঞতাকে নোরা বর্ণনা করেছেন ‘অবিশ্বাস্য’ হিসেবে।
তাঁর ভাষায়, এটি এমন একজন মানুষের গল্প, যে স্বপ্ন দেখার সাহস করেছিল। আমি চাই, আমার যাত্রা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করুক এবং তারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য সাহস নিয়ে এগিয়ে যাক।
‘সির সির’ গানটি তৈরি করেছেন ফরাসি-আইভরিয়ান সংগীতশিল্পী ভেজেড্রিম ও বাংলাদেশি-আমেরিকান সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব। গানটিতে মরক্কোর দারিজা ভাষার পাশাপাশি আরবি, ফরাসি ও ইংরেজির মিশ্রণ রয়েছে।
নোরার মতে, এই বহুভাষিক উপস্থাপনাই বিশ্বকাপের প্রকৃত চেতনাকে ধারণ করে। গানের ভিডিওতে মরক্কোর রাস্তাঘাট এবং পাড়ার মাঠে ফুটবল খেলা শিশুদের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যারা একদিন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখে।
নোরা বলেন, ফুটবলেরও একটি যাত্রা আছে। একজন শিল্পীর সংগ্রাম যেমন থাকে, তেমনি এই গানের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক মানুষেরও নিজস্ব গল্প রয়েছে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে নোরার উপস্থিতি নতুন নয়। ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেছিলেন তিনি। তবে এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে আরও বিশেষ।
কারণ এবার তিনি শুধু একজন অতিথি পারফরমার নন, বরং বিশ্বকাপের অফিশিয়াল সাউন্ডট্র্যাকের অংশ। এই পারফরম্যান্সের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মহড়া, কস্টিউম পরিকল্পনা ও মঞ্চ প্রস্তুতিতে সময় দিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপে প্রিয় দলের প্রসঙ্গ উঠতেই নোরার উত্তর ছিল স্পষ্ট। তাঁর সমর্থন মরক্কোর জন্য।
২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কোকে নিয়ে এবারও আশাবাদী তিনি। প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করাও দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
নোরার বিশ্বাস, মরক্কো শুধু আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করছে না, তারা এমন একটি দল যারা অসংখ্য বাধা অতিক্রম করে এই পর্যায়ে এসেছে। আমার মনে হয়, এই বিশ্বকাপেও তারা বিশেষ কিছু করে দেখাতে পারে।