জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আদালতের এ আদেশে সন্তুষ্ট নন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে চিকিৎসক, পুলিশ, সাংবাদিক ও উপস্থিত ব্যক্তিরা মরদেহ স্বাভাবিক অবস্থায় দেখেছেন। অথচ প্রতিবেদনে মরদেহ পচনধরা ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তার দাবি, এসব অসঙ্গতি থেকেই হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নীলা চৌধুরী বলেন, এত কিছু থাকার পরও আবার লাশ উত্তোলনের প্রয়োজন কেন, সেটাই বুঝতে পারছি না। বিষয়টি আমার কাছে প্রহসনের মতো মনে হচ্ছে।
এদিকে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তার দাবি, ঢালিউড অভিনেতা শিবা শানু তাকে ফোন করে সালমান শাহর মৃত্যুর মামলা নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে লন্ডনে অবস্থানরত নীলা চৌধুরী বলেন, কিছুদিন আগে শিবা শানু আমাকে ফোন করে বলেন, আপনার ছেলে আত্মহত্যা করেছে, মামলাটি নিয়ে এত নড়াচড়া করছেন কেন? মামলা বন্ধ করে দিন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা করছেন এবং শিবা শানুকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার উদ্যোগ নেবেন।
অন্যদিকে নীলা চৌধুরীর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিনেতা শিবা শানু। তিনি বলেন, ওনার সঙ্গে আমার কোনো পরিচয়ই নেই। জীবনে কখনও কথা হয়নি। আমি চলচ্চিত্রে এসেছি সালমান শাহর মৃত্যুর পর। তাই এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, ওনাকে বলবেন আমার ফোন নম্বর এবং কথোপকথনের কোনো রেকর্ড থাকলে তা প্রকাশ করতে। প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ তোলার কোনো মানে হয় না।
শিবা শানু দাবি করেন, সালমান শাহর সঙ্গে তার কখনও কাজ হয়নি, এমনকি সালমানের পরিবারের সঙ্গেও তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম করে বলছি, নীলা চৌধুরীর সঙ্গে আমার কখনও দেখা হয়নি, ফোনেও কথা হয়নি।
সালমান শাহকে নিজের অনুপ্রেরণা উল্লেখ করে শিবা বলেন, আমরা সালমান শাহ ও নাঈমদের অভিনয় দেখে বড় হয়েছি। তাদের দেখেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সবশেষে তিনি বলেন, কেউ অপরাধ করে থাকলে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত। তবে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। সালমান শাহ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক। তার মৃত্যুর রহস্যের সঠিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান হোক, সেটাই প্রত্যাশা।