আসন্ন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন নায়করাজ রাজ্জাকের ছেলে বাপ্পারাজ এবং আনোয়ারা বেগমের মেয়ে রুমানা ইসলাম মুক্তি। এই প্যানেলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন অভিনেতা বিলাশ খান। তিনি সরাসরি প্রার্থী না হলেও বাপ্পা-মুক্তি পরিষদের প্রতি সমর্থন জানাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে বিলাশ খান বলেন, এবার দুই কিংবদন্তির সন্তান নির্বাচন করছেন, যা শিল্পীদের জন্য ইতিবাচক দিক। তাদের ভাবনা ও পরিকল্পনা শিল্পীদের স্বার্থেই হবে বলে তিনি আশা করেন। সেই কারণেই একটি শিল্পবান্ধব প্যানেলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহও রয়েছে বলে জানান এই অভিনেতা।
নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বিলাশ খান আরও বলেন, আগে তিনি নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। তবে এবার তিনি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন দেখতে চান। তার মতে, শিল্পীরা পেশাদার রাজনীতিবিদ নন, তাই শিল্পী পরিচয়ই মুখ্য হওয়া উচিত।
তিনি অতীতের কিছু নির্বাচনী প্রেক্ষাপট নিয়েও কথা বলেন। বিভিন্ন সময় এফডিসিতে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তার মতে, শিল্পীদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কাজ ও পেশাগত পরিবেশ ঠিক রাখা।
৫ আগস্টের পর এফডিসিতে শিল্পী ও বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে একটি শান্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন বিলাশ খান। তিনি জানান, সবাই মিলে তখন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটে।
বিলাশ খান বলেন, শিল্পী সমিতির সদস্য হওয়ার পর তিনি একাধিকবার ভোট দিয়েছেন, তবে কখনো প্রার্থী হননি। এবার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তার ভাষায়, বাপ্পারাজ ও মুক্তির মতো অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় পরিবারের সন্তানরা নেতৃত্বে এলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে, যেখানে কোনো ধরনের প্রভাব বা অস্থিরতা থাকবে না। শেষ পর্যন্ত একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই তিনি প্রত্যাশা করেন।
বিলাশ খান অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘হিরো ৪২০’, ‘রক্ত’, ‘মনে রেখ’, ‘সুলতানপুর’সহ আরও কয়েকটি। বর্তমানে তার অভিনীত ‘জামদানি’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।