মা দিবসের আবেগঘন মুহূর্তে নিজের মনের গভীরে জমে থাকা না বলা কথাগুলো প্রকাশ করলেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা শিরিন শিলা। গ্ল্যামার, ক্যামেরা আর ব্যস্ততার জীবনের আড়ালে যে এক আবেগপ্রবণ মেয়েও লুকিয়ে আছে, সেটাই যেন এবার সামনে নিয়ে এলেন তিনি। মাকে ঘিরে ভালোবাসা, অভিমান, অপরাধবোধ আর না-পারা অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শিরিন শিলা জানান, তার জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ তার মা। বাবাকে হারানোর পর মায়ের সঙ্গেই যেন আরও গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে তার পুরো জীবন। মা-ই এখন তার আশ্রয়, ভরসা আর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। কিন্তু এত ভালোবাসার পরও তিনি কখনো সহজভাবে মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে পারেন না, আম্মু, তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

অভিনেত্রী বলেন, সবচেয়ে বেশি অভিমানও হয় মায়ের সঙ্গেই। ছোট ছোট বিষয় নিয়ে কখনো রাগ, কখনো ঝগড়া হয়। তবে সেই রাগ বেশিক্ষণ টেকে না। কারণ মা সবসময় সন্তানের দিকটাই আগে ভাবেন। শিলা জানান, তিনি অভিমান করে দূরে সরে থাকলেও মা-ই সবার আগে এগিয়ে এসে তার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করেন। আর তখন নিজের কাছেই খারাপ লাগে তার।
নিজের কিছু আচরণের জন্য অনুশোচনার কথাও অকপটে স্বীকার করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, অনেক সময় না বুঝে মাকে কষ্ট দিয়ে ফেলেন, উঁচু গলায় কথা বলেন কিংবা এমন কিছু আচরণ করেন, যা পরে মনে হলে খুব খারাপ লাগে। ভুল বুঝতে পারলেও মায়ের সামনে গিয়ে ‘সরি’ বলা হয়ে ওঠে না। লজ্জা আর সংকোচে অনেকবার দরজার সামনে গিয়েও ফিরে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
শিরিন শিলার ভাষায়, “মাঝে মাঝে মনে হয়, আম্মুর কাছে গিয়ে সব বলে দিই। বলি, আমি ইচ্ছা করে কিছু করিনি। কিন্তু বলা হয় না। শুধু ভেতরে ভেতরে অপরাধবোধ কাজ করে।
মা দিবসে তাই আর নিজের অনুভূতি লুকিয়ে রাখতে চাননি এই অভিনেত্রী। প্রকাশ্যেই মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “আম্মু, তোমাকে অনেক ভালোবাসি। হয়তো কখনো ঠিকভাবে বলতে পারিনি। অনেক সময় কষ্ট দিয়েছি, রাগ দেখিয়েছি। আমাকে মাফ করে দিও। তুমি ছাড়া আমার জীবনে আর কেউ নেই।
সবশেষে শিরিন শিলা জানান, জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এখন তার মাকে ভালো রাখা। যতদিন বেঁচে থাকবেন, মাকে আগলে রেখেই জীবন কাটাতে চান তিনি।