• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

আজ কিংবদন্তি এটিএম শামসুজ্জামানের জন্মদিন, শ্রদ্ধায় স্মরণ

এম.আর.জে শান্ত / ২৮ পঠিত
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রে এমন কিছু শিল্পী আছেন, যাদের নাম উচ্চারণ করলেই একটি যুগ চোখের সামনে ভেসে ওঠে। এটিএম শামসুজ্জামান তেমনই এক কিংবদন্তি। খলনায়ক, কৌতুক অভিনেতা, চরিত্রশিল্পী, কাহিনিকার, সংলাপ রচয়িতা ও পরিচালক—প্রতিটি পরিচয়েই তিনি ছিলেন সমান উজ্জ্বল। আজ ১০ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন। একজন শিল্পীর জন্মদিন নয় এটি, বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনন্য অধ্যায়ের স্মরণ।

১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর শৈশব থেকেই গল্প আর নাটকের প্রতি ছিল গভীর টান। ১৯৬১ সালে উদয়ন চৌধুরীর চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। পরে কাহিনি ও সংলাপ লেখার পাশাপাশি ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন। টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সংসপ্তক’-এ তাঁর অসাধারণ অভিনয় প্রখ্যাত নির্মাতা আমজাদ হোসেনের নজরে আসে। এরপর আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ (১৯৭৬) চলচ্চিত্রে নির্মম খলচরিত্রে অভিনয় করে তিনি রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন। ক্যামেরার পেছনের সেই সাধনা আর সঠিক সুযোগ তাঁকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে দেয়নি।
সত্তর ও আশির দশকে এটিএম শামসুজ্জামান হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী পর্দা-ব্যক্তিত্বদের একজন। ‘নয়নমণি’র পর ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’র প্রাণবন্ত উপস্থিতি, ‘ছুটির ঘণ্টা’র আবেগ, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘হাজার বছর ধরে’ কিংবা ‘চোরাবালি’র অসাধারণ অভিনয়—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন। তাঁর চোখের ভাষা, সংলাপ বলার স্বাভাবিক ভঙ্গি আর নিখুঁত অভিব্যক্তি তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
শুধু অভিনয় নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের গল্প বলার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনন্য। শতাধিক চলচ্চিত্রের কাহিনি, সংলাপ ও চিত্রনাট্য রচনা করেছেন তিনি। পরবর্তীতে পরিচালকের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নেন। একজন মানুষ একই জীবনে লেখক, অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে এতটা সফল হয়েছেন, এমন উদাহরণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে খুবই বিরল।
দীর্ঘ ছয় দশকের কর্মজীবনে তিনি অর্জন করেছেন একুশে পদক, আজীবন সম্মাননাসহ রেকর্ড ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং অগণিত দর্শকের ভালোবাসা। তবে পুরস্কারের চেয়েও বড় পরিচয় ছিল, তিনি ছিলেন শিল্পীদের শিল্পী। নতুন অভিনয়শিল্পীরা তাঁর অভিনয় দেখে শিখেছেন, নির্মাতারা ভরসা করেছেন তাঁর উপস্থিতির ওপর, আর দর্শক তাঁকে নিজের পরিবারের একজন মানুষ বলেই মনে করেছেন।
২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নেন। তবু কিছু মানুষ চলে গিয়েও থেকে যান তাঁদের সৃষ্টিতে। এটিএম শামসুজ্জামান ঠিক তেমনই এক নাম, যিনি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে শুধু একজন অভিনেতা নন, একটি জীবন্ত প্রতিষ্ঠান হয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ বিভাগের আরো সংবাদ