বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে কিছু শিল্পীর উত্থান একেবারেই ব্যতিক্রমী। এমরান হোসেন, যিনি দর্শকের কাছে ইমরান হাসো নামে পরিচিত, সেই তালিকারই একটি আলোচিত নাম। মঞ্চে মানুষকে হাসাতে হাসাতে যাত্রা শুরু করা এই তরুণ আজ নাটক ও চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন।
১৯৯৭ সালের ১১ ডিসেম্বর নওগাঁর পত্নীতলায় জন্ম ইমরানের। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ও হাস্যরসের প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। সেই আগ্রহই তাঁকে নিয়ে যায় এনটিভির জনপ্রিয় কমেডি রিয়েলিটি অনুষ্ঠান ‘হা-শো’-তে। অনুষ্ঠানটিতে তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনা এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, দর্শক তাঁর নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে জুড়ে দেয় ‘হাসো’ শব্দটি। এরপর থেকেই তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ইমরান হাসো নামে।
টেলিভিশনে পরিচিতি পাওয়ার পর থেমে থাকেননি তিনি। নিয়মিত নাটকে অভিনয়ের পাশাপাশি বড় পর্দায়ও জায়গা করে নেন। ২০১৭ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর ‘শান’, ‘সুলতানপুর’, ‘লাল শাড়ি’, ‘জ্বীন ৩’ ও ‘বেহুলা দরদী’-র মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে বহুমাত্রিক অভিনেতা হিসেবে তুলে ধরেন।
তবে ইমরান হাসোর সবচেয়ে বড় জনপ্রিয়তা এসেছে ছোট পর্দা থেকে। ‘বকুলপুর’, ‘অচিনপুর’, ‘স্বপ্ন আড্ডা’, ‘রূপনগর’, ‘আদম’, ‘নাইটগার্ড’, ‘মফিজ এখন ঢাকায়’, ‘শূন্য পৃথিবী’, ‘তোফাজ্জলের শেষ ভাত’ এবং ‘স্যার যেখানে ম্যাডাম সেখানে’ নাটকে তাঁর অভিনয় দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। গ্রামীণ ভাষা, সহজাত হাস্যরস ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় তাঁকে তরুণ দর্শকদের কাছে আলাদা জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।
ইমরান হাসোর সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সংগ্রামের গল্প। রাজধানীর ঝলমলে আলো থেকে নয়, জেলার এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করেছেন পরিশ্রম আর প্রতিভার জোরে। তাই তাঁর যাত্রা শুধু একজন অভিনেতার সাফল্যের গল্প নয়, বরং স্বপ্ন দেখতে সাহস করা এক তরুণের অনুপ্রেরণার গল্পও।
আজও তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষকে হাসানো যেমন একটি শিল্প, তেমনি হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়াও একজন অভিনেতার দায়িত্ব। সেই লক্ষ্য নিয়েই ইমরান হাসো এগিয়ে চলেছেন নাটক ও চলচ্চিত্রের নতুন নতুন অভিযাত্রায়।