
নিউজ ডেস্ক: নাটক ও সিনেমায় ছোট ছোট কমেডি চরিত্রে অভিনয় করে বহু বছর দর্শকদের হাসিয়েছেন অভিনেতা শামীম হোসেন। তবে পর্দায় হাসি ছড়ালেও বাস্তব জীবনে এখন কঠিন সময় পার করছেন এই অভিনেতা। কাজের অভাবে আর্থিক সংকটে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
একদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অশ্রুসিক্ত ভিডিও বার্তায় নিজের অর্থকষ্টের কথা জানান শামীম। আর বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ রেললাইনের পাশে বসে নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতার কথাই খুলে বলেন তিনি।
শামীম বলেন, অভিনয়ের বাইরে অন্য কোনো পেশায় যেতে চাইলেও তা যেন সহজ হয়ে উঠছে না তার জন্য। “অভিনয় পেশা বদল করতে গেলেও তো কিছু একটা করতে হবে। কিন্তু চেহারাটা এমন মার্কা মারা যে অন্য কিছু করতেও পারছি না। না পারব বাদাম বেচতে, না কাঁচামালের ব্যবসা করতে, না অটোরিকশা চালাতে। শিল্পী তো, আরেকটা শিল্পীর অপমান হবে। সেই কারণে অনেক সময় না খেয়েই থাকতে হচ্ছে।” কথাগুলো বলতে বলতে বারবার গলা ভারী হয়ে আসে তার।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর ধরে নাটকে নিয়মিত কাজ নেই। যাদের সঙ্গে আগে নিয়মিত কাজ করতেন, তাদের সঙ্গে এখন আর যোগাযোগ নেই। আবার যাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে, তারা তেমন কাজ করেন না। ইউটিউবনির্ভর কনটেন্ট নির্মাতা হারুন কিসিঞ্জারের কিছু কাজে অংশ নিলেও গত দুই মাস ধরে সেখান থেকেও কোনো ডাক আসেনি।
পরিবারের পাঁচজন সদস্যের দায়িত্ব তার কাঁধে। তিন ছেলে, স্ত্রী এবং তিনি নিজে। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় পুরো চাপটাই বহন করতে হচ্ছে তাকে। শামীম বলেন, তার তেমন কোনো সঞ্চয় নেই। সামান্য যা আছে, তা দিয়ে হয়তো কষ্ট করে রমজান মাসটা পার করা যাবে।
তবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান সন্তানদের কথা ভাবলে। তিনি বলেন, “আমার বাচ্চাগুলোর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। আমি ওদের বলেছি, ‘বাবারা, ঈদে তোমাদের কিছু লাগবে? পরিস্থিতি তো দেখছো। ওরা বলে, ‘বাবা, আমাদের কোনো চাওয়া নেই।’” কথাগুলো বলতে বলতে তার চোখেমুখে ভেসে ওঠে এক অসহায় বাবার বেদনা।
অভিনয়জীবনের পথটাও সহজ ছিল না শামীম হোসেনের জন্য। দুই দশকেরও বেশি আগে জীবিকার তাগিদে কুলিগিরি, রিকশা চালানোসহ নানা ধরনের কাজ করেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে বেইলি রোডের মহিলা সমিতির অফিসে পিয়নের চাকরি নেওয়ার পর সেখান থেকেই অভিনয়ের জগতে তার প্রবেশ। অভিনেত্রী-নির্মাতা আফসানা মিমি-র আহ্বানে ‘বন্ধন’ নাটকে কয়েকটি দৃশ্যে অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু হয় তার অভিনয়যাত্রা।
এরপর দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য নাটক এবং দুই ডজনের বেশি চলচ্চিত্রে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু সেই পরিচিতি আজ তার নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। অভিনয়ই তার পরিচয়, অথচ সেই পরিচয়ই যেন অন্য পেশায় যাওয়ার পথটাও কঠিন করে তুলেছে।
তবু আশা ছাড়েননি শামীম হোসেন। তার বিশ্বাস, তার এই কঠিন সময়ের কথা শুনে হয়তো কেউ না কেউ আবার তাকে কাজে ডাকবেন, আর তিনি ফিরে যাবেন নিজের সবচেয়ে প্রিয় জায়গা অভিনয়ের মঞ্চে।
Leave a Reply