বাংলা চলচ্চিত্রের একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী অঞ্জনার জন্মদিন আজ। অভিনয়, নৃত্য এবং অসংখ্য দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে রেখে গেছেন উজ্জ্বল পদচিহ্ন। বিশেষ এই দিনে সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি।
শিশুশিল্পী হিসেবে শোবিজে পথচলা শুরু হলেও খুব অল্প সময়েই নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন অঞ্জনা। সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডের অন্যতম ব্যস্ত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর নৃত্যনৈপুণ্যও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে বারবার।
বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্র দিয়ে তিনি কাজ শুরু করলেও তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিটি ছিলো ‘দস্যু বনহুর’। শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত এ ছবিটি ১৯৭৬ সালের ১২ই সেপ্টেম্বর মুক্তি পায়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি দেশের শীর্ষ অভিনেতাদের সঙ্গে অসংখ্য ব্যবসাসফল ও প্রশংসিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘মাটির মায়া’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘জিঞ্জির’, ‘চোখের মনি’সহ বহু জনপ্রিয় সিনেমায় তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে। অভিনয়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি এই গুণী অভিনেত্রী পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তবে তিনি চলে গেলেও তাঁর অভিনয়, নৃত্যনৈপুণ্য এবং বাংলা চলচ্চিত্রে রেখে যাওয়া অসামান্য অবদান তাঁকে আজীবন দর্শকের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে।
আজ তাঁর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন ভক্ত, সহকর্মী এবং দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।