ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘রকস্টার’-এ নতুন এক অবতারে হাজির হয়েছেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। ছবিতে তার লুক ও উপস্থিতি ইতোমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছে। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে জানতে চাইছেন, বয়স বাড়লেও কীভাবে নিজেকে এতটা ফিট ও আকর্ষণীয় রাখছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে ‘রকস্টার’-এর বিশেষ প্রদর্শনী শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন শাকিব খান। তিনি বলেন, মাঝে মাঝে আমাকে এত ‘ভাইয়া ভাইয়া’ বলা হয়, যেন আমি রাজ্জাক সাহেব না হোক, অন্তত সালমান শাহর আমলের নায়ক! অথচ ৬১ বছরের শাহরুখ খানকে দেখে সবাই বলে, ‘ওয়াও! হোয়াট আ লুক ম্যান!’ টম ক্রুজদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা হয়। কিন্তু আমি নতুন কোনো লুকে এলে আলোচনা শুরু হয়ে যায়, ‘৪০ বছর বয়সেও কী করে ফেলেছে!
তবে নিজের নতুন লুকের কৃতিত্ব একা নিতে চান না এই তারকা। তিনি জানান, এর পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ছবির নির্মাতা আজমান রুশোর। পাশাপাশি মজার ছলে বলেন, সুন্দর সুন্দর নায়িকা পাশে থাকলে লুক এমনিই বদলে যায়।
মুক্তির পর ‘রকস্টার’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। এ বিষয়ে শাকিবের মন্তব্য, একটি বিশেষ গোষ্ঠী বাংলা চলচ্চিত্রের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায় এবং তারাই নেতিবাচক মন্তব্যগুলো বেশি ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তার ভাষায়, প্রতিটি ছবিরই ভালো ও খারাপ রিভিউ থাকে। কিন্তু যারা বাংলা সিনেমার উন্নতি দেখতে চায়, তারা ছবির ইতিবাচক দিকগুলো নিয়েও কথা বলছে। প্রথম দিন অনেক নেগেটিভ রিভিউ দেখেছি। পরে একজন বলল, ‘ভাই, নেগেটিভ এখন বেশি খায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পজিটিভ প্রতিক্রিয়াই বেশি এসেছে। দিনশেষে সত্যেরই জয় হয়।
ছবির গল্প ও বার্তা নিয়েও কথা বলেন শাকিব। তিনি জানান, ‘রকস্টার’-এ ইচ্ছাকৃতভাবেই প্রচলিত অ্যাকশনধর্মী উপাদান থেকে সরে আসার চেষ্টা করা হয়েছে।
আমি এমন একটি ছবি করতে চেয়েছি, যেখানে বন্দুক থাকবে না, মেশিনগান থাকবে না। গল্পটাই হবে মূল শক্তি। ছবিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা রয়েছে। শুধু অর্থসম্পদ থাকলেই মানুষ সুখী হয় না। অনেকেই বলছেন, মাদকের ব্যবহার বেশি দেখানো হয়েছে। কিন্তু তারা হয়তো দেখছেন না, সেই মাদক কীভাবে একজন মানুষ ও তার পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, বলেন তিনি।
এ সময় শাকিব খান দাবি করেন, ‘রকস্টার’ তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন চলচ্চিত্র। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তার পাশে ছিলেন ছবির তিন নায়িকা সাবিলা নূর, তানজিয়া জামান মিথিলা ও সুনিধি নায়েক। উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা আজমান রুশো এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট আরও অনেকে।