পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌর শহর থেকে অপহরণের একদিন পর রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত অভিনেত্রী সুলতানা রোজ নিপা, তার ভাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় ওই শিক্ষার্থী। তবে স্কুল শেষে বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা স্কুলে যোগাযোগ করলে জানতে পারেন, সেদিন সে স্কুলেই যায়নি।
পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময়েও কোনো সন্ধান না পেয়ে শিক্ষার্থীর বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এদিকে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এক অজ্ঞাত নম্বর থেকে শিক্ষার্থীর বাবার মোবাইলে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, “আঙ্কেল, আপনার মেয়ে আমার কাছে এসেছে। আমি তাকে বিয়ে করেছি।” এরপর থেকেই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ জানায়, প্রযুক্তির সহায়তায় নম্বরটি শনাক্ত করে ট্রুকলারে ‘আকাশ’ নামে এক ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যায়। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়। অভিযুক্তের নাম আব্বাস আলী ওরফে আকাশ (৩৫)। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সদর উপজেলার ধর্মপুর হাজিরহাট এলাকায় এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বসবাস করছিলেন।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুক্রবার (১৫ মে) রাতে ঢাকার বাড্ডা থানার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার একটি বাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, বাসাটি কথিত অভিনেত্রী সুলতানা রোজ নিপার।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত আকাশ দেবীগঞ্জে একটি ভেকু মেশিন কোম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং কলেজপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। সেই সুবাদে স্কুলে যাতায়াতের পথে শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তিনি মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে তাকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।