রুপালি পর্দার উজ্জ্বল নক্ষত্র ববিতা। অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা আর কালজয়ী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তবে অভিনয়জীবনের সব সাফল্যের বাইরেও তার সবচেয়ে গর্বের পরিচয়, তিনি একজন মা।
বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মা পদক ২০২৬’ অনুষ্ঠানে সম্মাননা নিতে এসে যেন জীবনের আবেগময় অধ্যায়গুলোই খুলে বসেন এই গুণী অভিনেত্রী। মাতৃত্ব, সংগ্রাম, একাকীত্ব আর সন্তানের প্রতি সীমাহীন ভালোবাসার গল্পে আবেগঘন হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন আবুল হায়াত। চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের পাশাপাশি একক মা হিসেবে সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে দেওয়া হয় ‘মা পদক ২০২৬’।
সম্মাননা গ্রহণের পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ববিতা বলেন, “একটি নারীর জীবনের সবচেয়ে বড় পূর্ণতা মাতৃত্বে। সন্তানের চেয়ে বড় অর্জন একজন মায়ের কাছে আর কিছু হতে পারে না।
১৯৮২ সালে ব্যবসায়ী ইফতেখারুল আলমকে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৮৯ সালে জন্ম হয় একমাত্র সন্তান অনিক ইসলামের। কিন্তু ১৯৯৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর বদলে যায় পুরো জীবন। তখন অনিকের বয়স মাত্র তিন বছর। সেই কঠিন সময়েও ভেঙে পড়েননি ববিতা। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।
তিনি বলেন,অনেকেই চেয়েছিলেন আমি আবার সংসার করি। কিন্তু আমার সব ভাবনা ছিল শুধু আমার সন্তানকে ঘিরে।
নিজের সমস্ত ভালোবাসা আর সংগ্রাম দিয়ে ছেলেকে বড় করেছেন তিনি। সেই অনিক ইসলাম আজ কানাডার একটি বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। ছেলের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে গর্ব আর আবেগে ভরে ওঠে ববিতার কণ্ঠ।
বাংলা চলচ্চিত্রে প্রায় ২৭৫টি সিনেমায় অভিনয় করা এই অভিনেত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছেন। বিশ্ববরেণ্য নির্মাতা সত্যজিৎ রায়-এর সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি। কিন্তু এত অর্জনের পরও ববিতার কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার তার সন্তান অনিক ইসলাম।