
নিউজ ডেস্ক: জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমির সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনলাইন হয়রানি ও বুলিং নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ক্যাপশনে লিখেছেন—‘এটেনশন সিকার’, যেখানে ডিজিটাল দুনিয়ার কঠিন বাস্তবতা উঠে আসে তার কথায়।
‘কাভি ম্যাঁয় কাভি তুম’ (২০২৪) এবং ‘মেরি জিন্দেগি হ্যায় তু’-এর মতো জনপ্রিয় নাটকের এই অভিনেত্রী জানান, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার কম সক্রিয় থাকার পেছনে কারণ ছিল টানা নেতিবাচকতা। সাধারণত তিনি অনলাইনে বেশ সরব থাকলেও, এসব পরিস্থিতি তাকে কিছুটা পিছিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।
হানিয়া বলেন, তিনি বিতর্কের সঙ্গে নতুন নন, তবে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা তাকে ভাবতে বাধ্য করেছে—নিজেকে বদলে ফেলা উচিত কি না। তার ভাষায়, “মানুষ সুখী নারীদের সহ্য করতে পারে না। শুধু পুরুষই নয়, অনেক নারীও এতে যুক্ত।
নারীদের প্রতি নারীদের নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি একে ‘হেট ট্রেন’ বা ঘৃণার এক ধারাবাহিকতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, অনেকেই যেন অন্য নারীকে ছোট করার মধ্যেই এক ধরনের তৃপ্তি খুঁজে পান।
তিনি আরও বলেন, আগে এসব সামাজিক বিচার ঘরের ভেতর বা সীমিত পরিসরে থাকলেও এখন তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এখনো মানুষের গায়ের রং বা শারীরিক গঠন নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হচ্ছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
একটি ‘This or That’ ধরনের পোস্টের উদাহরণ টেনে হানিয়া প্রশ্ন তোলেন—এ ধরনের তুলনা কেন শুধু নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ? “যদি এটি ফ্যাশনের বিষয় হতো, তাহলে পুরুষদের ক্ষেত্রেও এমন তুলনা দেখা যেত,—যোগ করেন তিনি। তার মতে, এসব কনটেন্ট অযথা প্রতিযোগিতা বাড়ায়।
খ্যাতি পাওয়া নারীদের বিরুদ্ধে প্লাস্টিক সার্জারি বা অসৎ উপায়ের অভিযোগ তোলার প্রবণতারও সমালোচনা করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, যখন কোনো নারী প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে, তখন সে আর নিরাপদ থাকে না।
অনুসারীদের উদ্দেশে হানিয়া প্রশ্ন ছুড়ে দেন—আমরা কি কাউকে শুধু তার জনপ্রিয়তার জন্য ঘৃণা করি, নাকি তার সাফল্য কিংবা জীবন উপভোগ করার ক্ষমতাই আমাদের অস্বস্তির কারণ?
তার এই সাহসী বক্তব্য ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক তারকা ও প্রভাবশালী ব্যক্তি তার অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সবার প্রতি ইতিবাচক থাকার আহ্বান জানিয়ে হানিয়া বলেন, মানুষকে তার মতো করে বাঁচতে দিন।
Leave a Reply